২৬ জানুয়ারি ২০১৮
বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং। ব্যবসা বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাথর কোয়ারির অবস্থান জাফলংয়ে। জাফলংয়ের পাশেই তামাবিলে সিলেটের একমাত্র স্থলবন্দর।
পর্যটন আর ব্যবসা বাণিজ্যে জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার দুঃখের নাম সিলেট-জাফলং-তামাবিল সড়ক। বিশেষত এই সড়কের জৈন্তাপুর থেকে জাফলং পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার এলাকা। ২০০১ সালে মহাসড়কটি নির্মাণের পর থেকে এই ১৩ কিলোমিটার আর সংস্কার হয়নি। ১৬ বছর ধরে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। গত বন্যার পর থেকে আরও দুরবস্থা হয়েছে সড়কের। ফলে বড় বড় গর্ত পেরিয়ে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। আর শীত মৌসুমে ভাঙ্গা সড়কের সাথে যুক্ত হয়েছে ধুলো। এতে দিনে প্রায় অন্ধকার থাকে এ সড়ক। এতে ঘটছে দুর্ঘটনাও। সড়কের এই বেহাল দশার কারণে জাফলংয়ে কমছে পর্যটকদের সংখ্যাও।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সিদ্ধান্তহীনতায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে ছিলো এই মহাসড়ক। তবে ২০১৬ সালের শেষ দিকে সওজ’র পক্ষ থেকে এই সড়কের জৈন্তাপুর থেকে তামাবিল ও জাফলং পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এলাকা সংস্কারের জন্য ২১৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এই প্রকল্প প্রস্তাবনা।
এই সড়কের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ বলেন, এই সড়কটি নিয়ে আমি নিজেও বিব্রতকর অবস্থায় আছি। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি সংস্কারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সড়কমন্ত্রীও এই ব্যাপারে আন্তরিক। কিন্তু নানা জটিলতায় কাজ আটকে আছে। তবে এবার সব জটিলতার অবসান হয়েছে। আশা করছি ফেব্রুয়ারি থেকে এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সিলেট-জাফলং-তামাবিল সড়ককে এশিয়ান হাইওয়ে নির্মানের লক্ষ্যে আঞ্চলিক সড়ক থেকে মহাসড়কে উন্নীত করা হয়। এই সড়কের প্রায় পুরোটাই সওজ’র অধীনে। তবে মামার দোকান থেকে জাফলং পর্যন্ত কিছু এলাকা এলজিইডির অধীনে। এক সড়ক দুই প্রতিষ্ঠানের অধীনে হওয়ায় সংস্কার নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা।
এদিকে, সড়কের এই দুরবস্থার কারণে কমছে জাফলংয়ের পর্যটক সমাগম। পর্যটনের এই ভরা মৌসুমেও এবছর তেমন পর্যটক সমাগম হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
জাফলংয়ের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী সাত্তার আহমদ বলেন, আগে এরকম শীত মৌসুমে জাফলংয়ে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকতো। পর্যটকবাহী গাড়ির কারণে যানজট সৃষ্টি হতো। কিন্তু এবার ভরা মৌসুমে তেমন পর্যকরা আসছেন না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
জাফলং বেড়াতে আসা চট্টগ্রামের বাসিন্দা আবুল কাসেম বলেন, ভাঙ্গাচোরা সড়কের কারণে এখানে এসে সারা শরীর ব্যথা হয়ে গেছে। এছাড়া সড়কের কারণে এখানে মাইক্রোবাস আসতে চায় না। অনেক বেশি ভাড়া দিয়ে আমাদের আসতে হয়েছে।
এই সড়কের অটোরিকশা চালক মোক্তার হোসেন বলেন, এই সড়কে একবার গাড়ি চালালে অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে লাভের বদলে উল্টো লোকসান গুণতে হয়।
তবে সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী সপ্তাহেই এই সড়ক সংস্কারের প্রকল্পটি একনেকে পাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সওজ, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বলেন, প্রায় একবছর আগে আমরা এই সড়কটির সবচেয়ে ভঙ্গুর জৈন্তাপুর থেকে তামাবিল ও বল্লাঘাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এলাকা সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১৫ কোটি টাকা। আগামী সপ্তাহে এটি একনেকের সভায় উত্তাপন হবে। ওইদিন এটি অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
(আজকের সিলেট/২৬ জানুয়ারি/ডি/কেআর/ঘ.)