২৩ জুলাই ২০২২
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট উপজেলায় শুরু হয়েছে আমন ধানের জমির তৈরি করার কাজ। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার ধকল শেষে মানুষজন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াইয়ে নেমেছেন। কৃষকরাও থেমে নেই। বানের পানি নামার সাথে সাথে তারাও মাঠে নেমে পড়েছেন। আমন ধানের জমি আর বীজ তলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাটের কৃষকরা।
গত এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় বন্যায় মাঠে কৃষকের আধা পাকা কাঁচা বোরো ধান তলিয়ে যায়। সর্বশেষ ১৭ জুনের ভয়াবহ বন্যায় শুধু মাঠের ধান নয়, অনেক কৃষকের গোলার ধানও বানের জলে ভেসে গেছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কৃষকরা তপ্ত দুপুরে প্রখর রৌদ্রে আমন ধানের জমি তৈরিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র তাপদাহ, বারী বর্ষণ, আর বজ্রবৃষ্টির বৈরি আচরণকে উপেক্ষা করে জমি তৈরি করতে কৃষকরা নানা কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কেউবা পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের সাহায্যে হালচাষ করছেন। বৃষ্টির জমানো পানি যেন কোনোভাবে নিষ্কাশন হতে না পারে, এ জন্য জমির চতুর্থ দিকে মাটির শক্ত আইল তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোনো জমি থেকে অতিরিক্ত পানি সরিয়ে দেওয়ায় ব্যস্ত কৃষকরা।
জানা গেছে, এ উপজেলায় দুটি মৌসুমে কৃষকরা ধান চাষ করেন। একটি হলো- বোরো মৌসুম। যা শীতের প্রথম থেকে শুরু হয়। এই মৌসুমে ধান চাষকে নির্ভর করতে হয় বৈদ্যতিক সেচ পাম্প বা ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনের সেচের ওপর। অপরটি হচ্ছে- আমনের মৌসুম। যেটি শুরু হয় মূলত বর্ষায়। আমন ধান চাষ অনেকটা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছরের মতো এবারের আষাঢ়ের বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের আমনের জমি তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আরব আলি জানান, বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে তারা আমন চাষ করে থাকেন। এই জমানো পানিতে আমন ধানের চারা রোপণের উপযোগী করতে পাওয়ার টিলার দিয়ে হাল চাষ করছি। জমি তৈরি হলেই ধানের চারা রোপণ শুরু করবো।
আেরক কৃষক মাসুুক মিয়া বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিনের বয়ে যাওয়া বৃষ্টিতে চাষিরা নিজেদের জমিতে এই পানি জমিয়ে রেখেছেন। এখন পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষে ব্যস্ত সময় কাটছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২৭০ হেক্টর।আমনের বীজ তলা ৭৬৪ হেক্টর। এই পর্যন্ত বীজ তলা তৈরি হয়েছে ৫৮০ হেক্টর।
এদিকে, বন্যা পরবর্তী উপজেলার ৮৫০ জন কৃষককে সার ও বীজ এবং বাংলাদেশ ফিড এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে তিন কেজি করে ৩০০ জন কৃষককে বীজ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় কর্তৃক উপজেলা প্রকল্প অফিসের মাধ্যমে জি আর খাত হতে উপজেলার ১৪০০ জন কৃষক পরিবারকে ৫ কেজি করে বীজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আগামী রোববার উপজেলার ১৮৫০ জন কৃষক পরিবারকে নাভী জাতের ৫ কেজি বীজ বি আর ২২-২৩, ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার সহায়তা প্রদান করা হবে।