২০ জুলাই ২০২২
দাম বেড়েছে ওষুধের। রীতিমতো সরকারের অনুমোদন নিয়েই দাম বাড়ানো হয়েছে। অতিপ্রয়োজনীয় ২০টি জেনেরিকের ৫৩ ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম বাড়িয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ওষুধভেদে দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ ভাগ পর্যন্ত। নিয়ম মেনেই ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওষুধের মূল্যনির্ধারণ কমিটির সভায় এসব ওষুধের পুনর্র্নিধারিত দাম অনুমোদন করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে কয়েকটি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছিলো। প্রায় সাত বছর পর আবারো বাড়ানো হলো অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধের দাম। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ি প্যারাসিটামলের ৫০০ এমজির প্রতিটি ট্যাবলেট ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে এক টাকা ২০ পয়সা। প্যারাসিটামলের ১০টি জেনেরিকের দাম বেড়েছে। মেট্রোনিডাজল ৬টি জেনেরিকের দাম বেড়েছে। মেট্রোনিডাজল ২০০ এমজি ট্যাবলেট কোটেডের আগে দাম ছিল ৬০ পয়সা, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে এক টাকা। এমোক্সিসিলিন বিপি ৫০০ এমজি ইনজেকশনের আগের দাম ছিল ২৪ টাকা ১০ পয়সা, বেড়ে হয়েছে ৫৫ টাকা।
জানা যায়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য তালিকাভুক্ত ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে সরকার। বলা হচ্ছে ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল, প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল, পরিবহন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যয়সহ নানা কারণে ওষুধের খরচ বেড়েছে। এসব কারণে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাইজ পলিসি অনুযায়ি অনেকদিন ধরে দাম আপডেট করা হয়নি। তাছাড়া, বাজারে কিছু পণ্যের অ্যাভেইলেবিলিটি বা প্রাপ্যতা কম ছিলো তাই এগুলো অ্যাভেইলেবল করতে দাম আপডেট করা ছাড়া উপায় নেই। সবকিছু পর্যালোচনা করেই ওষুধ প্রশাসনের দাম নিয়ন্ত্রণ কমিটির পরামর্শক্রমে সরকার এ ওষুধগুলোর দাম আপডেট করেছে। করোনা বন্যাসহ নানা কারণে মানুষের অবস্থা ওষ্ঠাগত। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। যা সাধারণ মানুষকে আরেক সংকটে ফেলবে; এটাই স্বাভাবিক। উচিত ছিলো এই সময়ে চিকিৎসাসামগ্রী সহজলভ্য করা। কিন্তু এর পরিবর্তে বাড়ানো হলো দাম।
[জীবন রক্ষাকারি ওষুধের দাম বাড়লে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসবে, এটাই স্বভাবিক। ব্যাপারটি কি এরকম যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওষুধের দামও বাড়াতে হবে? খোড়া যুক্তিতে বাড়ানো হয়েছে দাম। আর সেই বৃদ্ধির পরিমাণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দ্বিগুণ। এই অবস্থায় ওষুধের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে জাতীয় ওষুধ নীতি ২০১৬ এর আলোকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ করা জরুরি বলে আমরা মনে করি।]