৮ জুলাই ২০২২
ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মণ্ডল বেপারী। গত বছর ৩০টি গরু নিয়ে সিলেট এসে লাভবান হয়েছেন। তাই এবার ঈদুল আজহায় ৪০টি গরু নিয়ে সিলেটে এসেছেন। তবে এবার পড়েছেন লোকসানের শঙ্কায়।
নগরের টিলাগড়ের সিরাপাড়ার একটি হাটে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, গত ঈদে গরু ভালো দামে বিক্রি করেছেন। এবার যেহেতু সিলেট-সুনামগঞ্জে বড় বন্যা হয়েছে তাই ভেবেছিলাম সিলেটে গরু কম হবে। কিন্তু হাটে তো গরু পর্যাপ্ত আছে। তবে ক্রেতা নেই। ধারদেনা করে হাটে এসেছি। টাকাও পুরিয়ে এসেছে। এখনো কোনো গরু বিক্রি করতে পারেনি। আছি টেনশনে। আল্লাহ জানে নসিবে কি আছে।
মণ্ডল বেপারির মতো সিলেট নগরে অন্যান্য হাটে গরু নিয়ে আসা উত্তরাঞ্চলের বেপারিদেরও চিত্র একই। সবাই রয়েছেন লোকসানের শঙ্কায়। টিলাগড়ের মিরাপাড়া হাটে সজীব রানা রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, বাজার এখনও অন্যবারের মতো জমেনি। এখন যারা আসছেন, হাতেগোনা কয়েকজন গরু কিনছেন। অনেকেই দাম জিজ্ঞেস করে চলে যান। তবে শুক্র ও শনিবার কোরবানির পশুর হাট জমজমাট হবে আশা তার।
এই হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। বাজারে মাঝারি থেকে শুরু করে বড় গরু দেখা গেলেও বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন।
দাম বেশি নিয়ে তুহিন মিয়া নামে এক বেপারি জানান, বাজারে এখন সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি। গরুর খাবার কাঁচা ঘাস, ভুসি, খৈল, খড় এমনকি লবণের দামও বেশি। সব কিছু বিবেচনায় দাম ঠিক আছে।
কুড়িগ্রামের জুবেল আলী বেপারি বলেন, আমি এ বছর ১৫টি গরু নিয়ে সিলেট এসেছি। দামাদামি করছেন অনেকে, তবে সুবিধামতো না হওয়ায় গরু বিক্রি করেননি। আশা করছি, যেহেতু ১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা। তাই ঈদের দুইদিন আগে বিক্রি বাড়তে পারে। প্রসঙ্গত, দফায় দফায় বন্যায় প্লাবিত সিলেট নগরে স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি এবার ৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে।