১৩ জুন ২০২২
আজকের সিলেট ডেস্ক : মাথায় সিলিংফ্যান পড়ে কপাল ফেটেছিল আলোচিত সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুরে নিজ বাড়িতে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। এরপর কোথায় আছেন, কেমন আছেন তিনি?
নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের জেরে বিপুল সমালোচনার মুখে মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারান হাসান মুরাদ। এরপর কদিন আড়ালে থেকে কী মনে করে দেশ ছেড়েছিলেন। কিন্তু কোথাও ঠাঁই হয়নি তার। ফিরে আসেন দেশে। কিন্তু ‘অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকিয়ে যায়’।
দেশে এসে বিবাদে জড়ান স্ত্রীর সঙ্গে। আর তাতে এই সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি, গালাগালি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসান। এরপর নিজেকে গুটিয়ে রাখেন মুরাদ।
হঠাৎ আবার খবরে আসেন ওপর থেকে ফ্যান পড়ে মাথায় আঘাত পেলে। সাবেক প্রতিমন্ত্রীর কেটে যাওয়া কপালে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়। এরপর নিজ বাড়িতে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
ডা. মুরাদ মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারালেও সংসদ সদস্য পদে বহাল আছেন। তার এপিএস জাহিদ নাঈম ঢাকাটাইমসকে জানান তিনি বাজেট অধিবেশনে যাচ্ছেন।
জাহিদ নাঈম বলেন, ‘স্যার, ঢাকাতেই আছেন। বাজেট অধিবেশন শুরু হলে তিনি ঢাকায় এসেছেন। প্রতিদিনই সংসদ অধিবেশনে হাজির হচ্ছেন।’
সাবেক প্রতিমন্ত্রীর শরীর কেমন জানতে চাইলে নাঈম বলেন, ‘…আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছেন। ফ্যান পড়ে মাথার যে অংশ কেটে গিয়েছিল, তা এখন ঠিক হয়ে গেছে। জামালপুর থাকলে তার নিজ এলাকার কর্মীদের সঙ্গে সময় দেন। পাশাপাশি সেখানে (সরিষাবাড়ি) রোগীও দেখছেন।’
সরিষাবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পাঠান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘উনি (মুরাদ) এলাকায় থাকেন বলেন আমি শুনেছি। তবে এখন কোথায় সেটা বলতে পারব না, কারণ আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি।’
সরিষাবাড়ি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেলী আক্তার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ভাইয়া (মুরাদ) তো এখন সুস্থ। তিনি বেশ কয়েক দিন ঢাকাতে আছেন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, ‘তার (মুরাদ) আশপাশে নেতাকর্মীদের আনাগোনা একদমই কম। যে কারণেই হোক, যেভাবেই হোক তাকে দলের বিভিন্ন পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন মুরাদ হাসান নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশতে চাইলেও তো নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে মিশবে না। এটাই হলো বাস্তব পরিস্থিতি।’
সব সময় বিতর্কিত মুরাদ হাসান
নানা ইস্যুতে আলোচনার জন্ম দেওয়া সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান পদ হারানোর পর থেকে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে ফোনে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়েন মুরাদ হাসান। এরপর তাকে জামালপুর আওয়ামী লীগের পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিতর্কের মুখে মুরাদ হাসান গত বছরের ১০ ডিসেম্বর কানাডার উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন। তবে কানাডার বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি তাকে সে দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। এরপর কানাডা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান মুরাদ। সেখানেও প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন সমালোচিত এই সংসদ সদস্য।
এরপর আত্মগোপনে থাকা মুরাদ স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে পুনরায় আলোচনায় আসেন। দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা মুরাদকে প্রথম দেখা যায় ২২ জানুয়ারি জামালপুরে চাচার জানাজায় শরিক হলে।
‘৯৯৯’-এ সহায়তা চেয়ে স্ত্রীর ফোন, এরপর…
গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় জরুরি সহায়তা নম্বর ৯৯৯ এ মুরাদ হাসানের স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসান ফোন করে পুলিশি সহায়তা চান। এরপরই ধানমন্ডি থানা পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল ধানমন্ডিতে মুরাদের বাড়িতে ছুটে যান। ততক্ষণে মুরাদ হাসান বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এদিন সন্ধ্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় জিডি করেন জাহানারা এহসান।
জিডির পর ৮ জানুয়ারি হুমকির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুরাদ হাসানের লাইসেন্স করা দুটি অস্ত্র এবং তার স্ত্রীর লাইসেন্স করা একটি অস্ত্র নিরাপত্তাজনিত কারণে জমা নেয় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। যার মধ্যে একটি পিস্তল ও দুটি শর্টগান।