১০ জুন ২০২২
ডেস্ক রিপোর্ট : ঋতুচক্রের পালাবদলে আসা গ্রীষ্মকাল প্রায় শেষের দিকে। শেষ সময়ে এসে নিজের মধু চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রকৃতি। চলতি বছর দেরিতে হলেও কার্পণ্য করেনি মধুমাস জৈষ্ঠ্য। মধুময় ফলের ঘ্রাণে মাতিয়ে রেখেছে বাজার। তবে আকাশচুম্বী দাম থাকায় সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকছে মধু মাসের ফল। কাঁঠাল, আম, জাম, লিচু, লটকন, পেয়ারা, আনারস, জাম্বুরা বা তালের শ্বাসের স্বাদ নিতে অপেক্ষা করতে হয় বছরের এই সময়টার জন্য। স্বাদে-গন্ধে অনন্য জৈষ্ঠ্যমাসকে এজন্যই মধুমাস বলা হয়। তবে দামের কারণে চলতি বছর এই মাসের মধুর স্বাদ নেওয়া সহজ হচ্ছেনা সাধারণ মানুষের জন্য।
নগরীর বন্দরবাজার, সোবহানিঘাট, মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, শাহী ঈদগাহ, আম্বরখানা, সুবিদবাজার, রিকাবিবাজার, ওসমানী মেডিকেল রোড, মদিনা মার্কেট, লামাবাজার, শেখঘাট, তালতলা, দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল, কদমতলীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাজারে প্রায় সব ধরনের মৌসুমি ফলই দেখা যায়। এছাড়া মৌসুম শেষ হওয়ায় বিদায়ের পথে থাকা বেল, বাঙ্গি ও তরমুজের মতো ফলও দেখা গেছে বাজার গুলোতে।
গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফলের মধ্যে বর্তমানে বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে লিচু। স্থায়ী বাজার ও দোকানের পাশাপাশি ভাসমান বাজারে লিচু বিক্রি হচ্ছে সমান তালে পাল্লা দিয়ে। মাঝারি ধরনের লিচু প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। অন্যদিকে বড় সাইজের প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। দাম বেশি বলে বিক্রেতাদের দিকে আঙুল তুলছেন ক্রেতারা, আবার বিক্রেতারা বলছেন কৃষক পর্যায়ে লিচুর দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে, লিচুর সাথে বাজারে টক্কর দিচ্ছে বিভিন্ন জাতের আম। ক্রেতা পর্যায়ে প্রতি কেজি হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে। লেংড়া ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, আর লক্ষণ ভোগ ও গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। পরিমাণে কম হলেও অনেক জায়গাতে দেখা পরে আম্রপালি জাতের সুস্বাদু আম। যা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে।
এছাড়াও বাজারে জাম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, লটকন ২০০ টাকা, পেয়ারা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁঠাল আকারভেদে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তরমুজ প্রতিটি ৮০ থেকে ২০০ টাকা, আনারস প্রতি হালি ৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আর তালের শ্বাস প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে।
রিকাবিবাজার এলাকায় আম কিনতে আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুই কেজি হিমসাগর আম কিনলাম ১২০ টাকা করে। অন্যান্য বছর এই সময়ে আমরা ৭০-৮০ টাকা কেজিতে হিমসাগর আম কিনি। বাচ্চাদের এখনও নতুন আম খাওয়াতে পারিনি। অল্প বেতনে চাকরি করে ১২০ টাকা কেজির আম খাওয়াটা আমার কাছে বিলাসিতা মনে হচ্ছে। দাম না কমলে আর আম খাওয়া হবে বলে মনে হয়না।
আরেক ক্রেতা মণি রানী দাস বলেন, লিচু কিনতে আসছিলাম ২০০ টাকা আঁটির লিচু খাওয়া আমার জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা। লিচু আর কিনতে পারিনি, এক কেজি আম কিনেছি তাও ১০০ টাকা দরে।
শুধু আব্দুল্লাহ আল মামুন বা মণি রানী নন এদের মতো শত শত ক্রেতা ফল কিনতে এসে ফেলছেন দীর্ঘশ্বাস। কেউ বাজেটের বাইরে গিয়ে কিনছেন আর কেউ ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে। তবে এতে একটুও বিচলিত নন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন পাইকারি দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে মৌসুমি ফল।
বন্দরবাজারে ভাসমান ফল ব্যবসায়ী আনফর মিয়া বলেন, বাজারে ভাসমান ব্যবসায়ীদের কাছে সব থেকে কম দামে ফল বিক্রি হয়। কারণ এখানে কাউকে ভাড়া দিতে হয়না। এ বছর আমাদের ফলের দাম বেশি হবার একমাত্র কারণ পাইকারি বাজারে ফলের দাম বেশি থাকা। দেরিতে হলেও এ বছর বাজারে সব ধরনের ফল এসেছে, কিন্তু দাম চড়া।
সিলেটের অন্যতম ও প্রধান পাইকারি বাজার কদমতলীতে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও ফলের দাম তুলনামূলক বেশি। হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে, ল্যাংড়া ৬০ টাকা, গুটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লক্ষণভোগ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। লিচু প্রতি খাঁচা আড়াই হাজার টাকা, আনারস আকার অনুযায়ী প্রতিটি ১২ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আড়ৎদার ব্যবসায়ী ও কমিশন এজেন্ট গৌতম পাল জানান, চলতি বছর ফলের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। অন্য বছর যে লিচু প্রতি খাঁচা ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা করে দাম ছিল এবছর সেটাই বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। আমরা কমিশনে ফল বিক্রি করি। কৃষক পর্যায়ে ফলের দাম বেশি, খরচা বেশি, গাড়ি ভাড়াও বেশি। আমাদের ক্রেতারা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকলে খুচরা বাজারে বেশি থাকবে এটা স্বাভাবিক।