৬ জুন ২০২২


কানাইঘাটে চেয়ারম্যানের হরিণ জবাই নিয়ে তোলপাড়

শেয়ার করুন

কানাইঘাট প্রতিনিধি : কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে হরিণ জবাই করে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইসাথে একটি হরিণ আটকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এনিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একটি হরিণের চার পায়ে বেঁধে বাঁশের সঙ্গে উল্টো করে ঝুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অপর একটি ভিডিওতে চার পায়ে বাঁধা হরিণকে মাটিতে ফেলে রাখতে দেখা গেছে। আশপাশে অনেক মানুষের উপস্থিতি।

তবে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার আটক করা হরিণটি তার বাড়ির উঠানে নিয়ে গেলে কয়েকজন হরিণটি মরে যাবে বলে জানালে তারা পায়ের বাঁধন খুলে গলায় বাঁধতে গেলে হরিণটি পালিয়ে যায়। তিনি এর বাইরে কিছুই জানেন না।

সিলেট বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ওয়াইল্ড লাইফ) শহিদুল্লাহ বলেন, হরিণ ধরার ভিডিও থাকলেও সেটি ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদি ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে এর প্রমাণ থাকার কথা। কিন্তু এর কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খবর নেওয়া হচ্ছে।

কানাইঘাট থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ওই এলাকায় ভারত থেকে বন্য শূকর, হরিণ, বন্য হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করে। অনেক সময় ভারতীয়রা বন্য প্রাণী তাড়া দিয়ে নিয়ে আসেন, আবার শিকার করেও নিয়ে যান। হরিণ আটকের একটি ভিডিও দেখা গেছে। এ বিষয়ে লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, একটা হরিণ ধরা হয়েছিল, পরে সেটি ছুটে গেছে।

এদিকে, ফেসবুকে হরিণের পা বাঁধা ছবি ও ভিডিও ছেড়ে দেয়ার পর এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত রয়েছেন এবং হরিণ জবাই করে খেয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান অনেকে।

এসব আইডির পোস্টে উল্লেখ করা হয়- বাজেখেল গ্রামের গ্রামপুলিশ মাসুক, নুরের ছেলে সুহেল, মৃত তমিজ উদ্দিনে ছেলে ইফজাল বন্য হরিণটি বাজেখেল গ্রাম থেকে স্বীকার করে লাঠিতে পা ঝুলিয়ে নিয়ে জনৈক রুবেলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর সাবেক চেয়ারম্যান শমসের আলমের পরামর্শে ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিনের নির্দেশে স্বীকার করা হরিণটি গত শুক্রবার রাতে তমিজ চেয়ারম্যানের বাড়িতে জবাই করে খাওয়া হয়েছে এমন পোস্ট বেশ কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত শুক্রবার দিনের বেলা লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের নয়াখান গ্রামে একটি বন্য হরিণ এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে তাড়া করলে হরিণটি বাজেখেল গ্রামের বাগানের ঘাট সংলগ্ন এলাকায় লোভা নদীর পারে চলে আসলে গ্রামের কিছু লোকজন হরিণটিকে আটক করে। একপর্যায়ে আটক হরিণটি গ্রাম পুলিশ মাসুকের জিম্মায় দেয়া হলে স্থানীয় কতিপয় লোকজন হরিণটি মাসুকের কাছ থেকে নিয়ে জবাই করার চেষ্টা করলে লোকজন জড়ো হলে সেখানে জবাই না করে সাবেক চেয়ারম্যান শমসের আলমের বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানেও লোকজন জানাজানির কারনে হরিণটি জবাই করতে না পেরে ঐদিন রাতে শমসের আলম ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিনের স্পিডবোটে করে হরিণটি তার বাড়িতে নেয়া হয়।

শেয়ার করুন