২৯ মে ২০২২


বিয়ানীবাজারে পুলিশের ধাওয়ার পর মিললো আসামির লাশ

শেয়ার করুন

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : বিয়ানীবাজারে পুলিশের ধাওয়ার ১২ ঘণ্টা পর হাওর থেকে দুলাল আহমদ (৪০) নামের এক পলাতক আসামির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুলাল আহমদ উপজেলার পিরেরচক এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের পিরেরচক এলাকার কদম আনি হাওরে তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানাপুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

জানা যায়, শনিবার বিকালে দুলাল আহমদকে গ্রেফতার করার জন্য জন্য পুলিশ ধাওয়া করে। ধাওয়ার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এর পর রোববার সকালে হাওরে ভেসে উঠার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক শ মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ‘পুলিশি নির্যাতনে দুলালের মৃত্যু হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের উত্তেজনার খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দুলাল আহমদ শনিবার বিকালে স্থানীয় কুশিটিকি সেতুর উত্তর হাওরে নৌকা বাইচ দেখতে গিয়েছিলেন। নৌকা বাইচ শুরু হওয়ার আগ মুহুর্তে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ দুলালের পাশে দাঁড়ানো যুবককে নাম জিজ্ঞেস করতেই দুলাল আহমদ দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি হাওরের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটতে থাকলে পুলিশ সদস্যরা নৌকায় চড়ে তার পিছু নেয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

রোববার সকালে গ্রামের লোকজন হাওরে মাছ শিকারে গেলে দুলাল আহমদের ভেসে উঠা লাশ দেখতে পেয়ে তার পরিবারে খবর দেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কয়েক শ মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসম তারা অভিযোগ করেন- পুলিশ যে নৌকায় পিছু নিয়েছিলো সে নৌকার লগিসহ হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে তাকে আঘাত করায় তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

নিহত দুলাল আহমদের ছোট ভাই সেলিম উদ্দিন বলেন, ভাই (দুলাল আহমদ) ভালো সাঁতার জানতেন। তিনি পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার কথা না। তাকে মারা হয়েছে। ভাইয়ের বাম পাশের কানের কাছে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব এ বিষয়ে বলেন, নিহত দুলাল আহমদকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের ব্যবস্থা নেয়া হবে- এমন আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ মানুষ শান্ত হন।

বিয়ানীবাজার থানা ওসি হিল্লোল রায় বলেন, পুলিশ ওয়ারেন্টুভুক্ত আসামি ধরতে অভিযানে গেলে আসামি দুলাল পালিয়ে যেতে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। রোববার এলাকাবাসীর কাছে থেকে খবর পেয়ে হাওর থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের ময়না তদন্ত শেষে জানা যাবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন।

শেয়ার করুন