২৯ মে ২০২২
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : পেশাদার গাড়িচালকদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। কিন্তু জেলাপর্যায়ে এখনো চালু হয়নি এ সেবা। ফলে হবিগঞ্জে চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন কার্যক্রম। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলার কয়েক হাজার গাড়িচালকসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নতুন লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করতে না পারায় রাস্তায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে চালকদের।
পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলছেন, হবিগঞ্জে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম চালু নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বশীল মহলে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পেশাদার গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে বিআরটিএ। ৩০ জানুয়ারি থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হলেও জেলায় এখনো চালু হয়নি ডোপ টেস্ট কার্যক্রম। এতে আটকে আছে চালকদের নতুন লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন পেশাদার গাড়িচালকেরা। নতুন লাইসেন্স ইস্যু করতে না পারায় রাস্তায় নামতে পারছেন না অনেক চালক। আর লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ায় রাস্তায় পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের।
এসব হয়রানি থেকে বাঁচতে ডোপ টেস্ট সনদের জন্য যেতে হচ্ছে সিলেট কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এতে সময় ও অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি বেড়েছে ভোগান্তিও।
বাসচালক রজব আলী বলেন, ‘হঠাৎ করে বিআরটিএ নিয়ম করছে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য ডোপ টেস্ট লাগবে। এখন হবিগঞ্জে ডোপ টেস্ট হয় না, তাহলে আমরা কী করব? এ কারণে চার মাস ধরে লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছে না। রাস্তায় নামলে পুলিশ হয়রানি করে।’
ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আসা আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বিআরটিএ অফিসে আসছিলাম ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে। তারা জানায় আগে ডোপ টেস্ট করতে হবে, পরে আবেদন নেবে।’
ট্রাকচালক রাজু মিয়া বলেন, ‘আমরা যারা পেশাদার ড্রাইভার, তাদের ডোপ টেস্ট লাগবে; বাকিদের লাগবে না। এখন কথা হলো রাস্তায় কি শুধু আমরাই দুর্ঘটনা ঘটাই? তারা করে না? তাহলে শুধু আমাদের বেলাই কেন ডোপ টেস্ট লাগবে?’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব আলী বলেন, ‘আমি সিভিল সার্জনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। শেষ পর্যন্ত তিনি আশ্বস্ত করেছেন আগামী সপ্তাহে জেলায় ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে। যদি আগামী সপ্তাহে না হয়, তাহলে আমরা কী করব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
বিআরটিএ হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা এখন লাইসেন্স নবায়নের জন্য যে আবেদনগুলো আসছে, সেগুলো নিচ্ছি। ইতিমধ্যে নবায়নের জন্য কয়েক শ আবেদন অফিসে জমা পড়েছে। ডোপ টেস্টের কাগজ না পাওয়ায় সেগুলো আমরা দিতে পারছি না। ডোপ টেস্ট সনদ না মেলায় চার মাস ধরে পেশাদার গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তিনি জানান, জেলায় ডোপ টেস্ট কার্যক্রমের জন্য সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা মিটিং ও মাসিক সমন্বয় সভাতেও এ বিষয়ে আলাপ হয়েছে। তবে লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ার কারণে যেন চালকেরা কোনো ঝামেলায় যাতে না পড়েন, এ জন্য চালকদের স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। আপাতত এই স্লিপ দেখালে কোনো সমস্যা হবে না।
জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নূরুল হক বলেন, গত অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনাতে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় ডোপ টেস্ট কিট কেনার সুযোগ নেই। তবে এ সংকট সমাধানের জন্য আমি অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। এখন অধিদপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত দিলেই জেলায় ডোপ টেস্ট সম্ভব।