২৪ মে ২০২২
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বেড়েছে দুর্ভোগ। বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। ফলে বেড়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। গত এক সপ্তাহে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকায় ১০৩৯ জন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯১৭ জন ডায়রিয়া, বাকিরা চর্ম ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সিলেট সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানা গেছে- সিলেটে বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৪০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। যার মধ্যে সিলেট সদরে ১০টি, দক্ষিণ সুরমায় ৮টি, বিশ্বনাথে ১১টি, ওসমানীনগরে ৯টি, বালাগঞ্জে ৭টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১০টি, গোলাপগঞ্জে ১৬টি, বিয়ানীবাজারে ১৬টি, জকিগঞ্জে ১০টি, কানাইঘাটে ১২টি, গোয়াইনঘাটে ১০টি, জৈন্তাপুরে ১১টি এবং কোম্পানীগঞ্জে ৭টি মেডিকেল টিম গঠিত হয়েছে। এর বাইরে জেলা সদরে ৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব মেডিকেল টিমে চিকিৎসক ছাড়াও নার্সসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন। প্লাবিত এলাকার সবখানেই যেন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেডিকেল টিমকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।
মঙ্গলবার সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকার রাস্তার পানি শুকিয়ে গেলেও বাসাবাড়ীতে এখনও পানি রয়ে গেছে। এই পানি কালো রং ধারণ করে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাই ওইসব এলাকার বাসিন্দারা পানিবাহিত রোগের শঙ্কায় আছেন। এ ছাড়াও বন্যার পানিতে বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা ভেসে এসে ঘর ও আশপাশে জড়ো হয়েছে। জমে থাকা পানিতে জন্ম নিয়েছে মশাসহ নানা কীটপতঙ্গ।
কানিশাইল এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ব্লিচিং পাউডার দিয়ে তারা এখন নিজেদের বাসা-বাড়ি পরিষ্কার করছেন। আসবাবপত্র ধোয়া-মোছার কাজও চলছে। যাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছিল, তারাও এখন পরিষ্কারকরণে ব্যস্ত।
এদিকে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ শহরের বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের জন্য মেডিকেল টিম গঠন করেছে সিলেট সিভিল সার্জন ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া বন্যাকবলিতদের মধ্যে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ করছেন তারা।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. এস এম শাহরিয়ার বলেন, বন্যার কারণে পানিবাহিত রোগ বেড়েছে। এক সপ্তাহে জেলায় ৩৭৬ জন লোক ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ৬ জন চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আমাদের মেডিকেল টিম ইউনিয়ন পর্যায় থেকে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। যাতে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে না পরে। তবে বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। তবুও আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা ইতিমধ্যে কাউন্সিলারদের মাধ্যমে পানি নেমে যাওয়া এলাকা সমূহের জন্য ব্লিচিং পাউডার বিতরণ শুরু করেছি। এসব শুকনো পাউডার স্যাতস্যাতে জায়গায় ছিটিয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, নগরীর বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আমাদের ৩টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে আমরা ওয়ার্ড ভিত্তিক স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করব। প্রতিদিনের রুটিন ওয়ার্কের অংশ হিসেবে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিদিনই নগরীর স্ব স্ব এলাকায় স্বাস্থ্য বিষয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
সিলেট বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস. এম শহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সিলেটের প্রায় সব এলাকাতেই বন্যা পরিস্থিতির আরো এক ধাপ উন্নতি হয়েছে। কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ সীমান্তেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সব মিলিয়ে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে।