২৪ ডিসেম্বর ২০১৭


সুনামগঞ্জে নীতিমালা বদল হলেও শুরু হয়নি বাঁধ নির্মান

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে এক ফসলী বোরো ধান উৎপাদন সমৃদ্ধ হাওর গুলো রক্ষায় ২০১৭ইং কাবিটা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ডিসেম্ভর থেকে বাঁধ নির্মানের কাজ বাধ্যতামুলক শুরু করার কথা। আর ২৮ফেব্রুয়ারী বাঁধ নির্মানের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনও শুরু হয় নি।

প্রকল্প অনুমোদন, পিআইসি গঠন ও মাঠের কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিদের সহায়তা না পাওয়াসহ নানান কারন রয়েছে বলে জানান জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন। অনেক উপজেলায় এখনও পিআইসি গঠন করা হয় নি। ফলে এ মাসে বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু হবে কি না এ নিয়ে লাখ লাখ কৃষক উদ্বেগ,উৎকণ্ঠা আর আতংকের মধ্যে সময় পার করছে।

জানা যায়, জেলার তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,বিশ্বম্ভরপুর,দিরাই,শাল্লা,ছাতক,দোয়ারা বাজার উপজেলাসহ ১১টি উপজেলার ৩৬টি বৃহত্তর হাওর ১৭টি উপ-প্রকল্পসহ মোট ৫৩টি হাওরের ৯১৪ পিআইসি গঠন করার কথা। এবার পিআইসি গঠনের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃতাধীন কমিটির।

নতুন নীতিমালা নদী,খাল পূর্নখননের জন্য স্কিম প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ অনুমোদন হয়েছে। ২০১৭-২০১৮ইং থেকে এই পরিবর্তিত নীতিমালায় কাজ হবে। সে অনুযায়ী ৩১অক্টোবরের মধ্যে পিআইসি গঠনের নির্দেশনা ছিল। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ডিসেম্ভর থেকে বাঁধ নির্মানের কাজ বাধ্যতামুলক শুরু করার কথা।

আর ২৮ ফেব্রুয়ারী বাঁধ নির্মানের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনও শুরুই হয় নি। হাওর রক্ষার বাঁধ নির্মানের চাহিদা রয়েছে ১হাজার ৪৫০কিলোমিটার হলেও রাজস্ব খাতে ৩৬টি হাওরে কাজ হবে ৫৭৯কিলোমিটার। তার সাথে অনুন্নয়ন খাতের আরো ১শত কিলোমিটার বাঁধের কাজ যোগ করা হয়েছে।

উন্নয়ন খাতে ৯৫কোটি টাকার চাহিদা থাকলেও অনুমোদন হয়েছে ২৮কোটি ৮৮লাখ টাকা। উন্নয়ন খাতে ৩৬টি হাওর সহ আরো ১৭টি হাওর মিলে ৫৩টি হাওরের ১শত কিলোমিটার বাঁধের নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮কোটি ৮৮লাখ। গত ৩১শে অক্টোবর পাউবো পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে ১হাজার ৮৮টি প্রকল্পের খসরা পাঠিয়েছে। আরো শতাধিক প্রকল্প তৈরী করা হচ্ছে। তবে প্রকল্প গুলো এখনো অনুমোদন হয় নি।

উন্নয়নর খাতের ৩৬টি হাওরের যে বাঁধ ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্মিত হবে এর প্রকল্প শেষ হয়েছে। অনুন্নয়ন খাতের (উন্নয়ন খাতের ৩৬টি সহ) ৫৩টি হাওরের পিআইসি এখনো সম্পন্ন হয় নি। চলতি মাসেই পিআইসি গঠন করা সম্পন্ন হবে বলে জানায়ায়। পাউবো সূত্রে আরো জানাযায়,পাউবোর সুনামগঞ্জ (পরিচালনা ও রক্ষানাবেক্ষণ) বিভাগ-১এর অধীনে উন্নয়ন প্রকল্পে ১৪০টি ও অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের ৩৭২টি।

বিভাগ-২এর অধীনে উন্নয়ন খাতের ২৩১ ও অনুন্নয়ন খাতে ২২০টি সহ মোট ৯১৪পিআইসি গঠন করার কথা। উন্নয়ন খাতে পিআইসি হবে সুনামগঞ্জ পওর ১এর অধিনে সদর উপজেলায় ৩টি,অনুন্নয়ন বাজেটে ৪৭টি। বিশ্বম্ভরপুর উন্নয়নে ১১টি,অনুন্নয়নে ২২টি। তাহিরপুরে উন্নয়নে ৩৩টি,অনুন্নয়নে ৭৫টি। জামালগঞ্জে উন্নয়নে ২১টি,অনুন্নয়নে ১০৬টি। ধর্মপাশায় উন্নয়নে ৭২টি,অনুন্নয়নে ৭৭টিসহ মোট ৪৬৭টি। সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ ২-এর অধীনে পিআইসি হবে দিরাইয়ে উন্নয়নে ৪০টি,অনুন্নয়নে ৭০টি।

শাল্লায় উন্নয়নে ৮৪টি,অনুন্নয়নে ৫২টি। দক্ষিন সুনামগঞ্জে উন্নয়নে ৩২টি,অনুন্নয়নে ২৭টি। জগন্নাথপুরে উন্নয়নে ৩৪টি,অনুন্নয়নে ৪৮টি। ছাতকে উন্নয়নে ৯টি,অনুন্নয়নে ৩টি ও দোয়ারা বাজারে উন্নয়নে ৩২টি,অনুন্নয়নে ২০টি সহ মোট ৪৪৭টি পিআইসির মাধ্যমে এবার হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মান করা হবে।

জানা যায়,পূর্বে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যগন পিআইসির সভাপতি হতেন। ৫সদস্যের পিআইসিতে স্থানীয় সংদস সদস্য মনোনীত ৩জন,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনোনীত ১জন। অনেক ক্ষেত্রে সদস্য মনোনয়নের বিলম্বের কারনে পিআইসি গঠন ও বাধেঁর কাজ শুরু হতে দেরি হতো। এবার নতুন নীতিমালা অনুযায়ী হাওর পাড়ের কৃষকদের দিয়েই পিআইসি গঠন করা হবে।

এবার পিআইসির সদস্য সংখ্যা হবে ৫থেকে ৭সদস্য বিশিষ্ট। জেলা ও উপজেলা কমিটিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি করে স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তেরের প্রকৌশলী, ভূমি,মৎস,কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরকে সংযুক্ত করা হয়েছে। বাধেঁর কাছের জমির প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিআইসি গঠন করবেন।

জেলা ও উপজেলা কমিটি প্রকল্প কমিটির অনুমোদন দেবে। সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্য্যালয় সূত্রে জানাযায়,জেলার সর্বমোট আবাদী জমির পরিমান ৩,৭৯,২১৬ হেক্টর। গত বছর প্রায় ২লাখ ১৫হাজারের অধিক হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিল। আর বাকি জমিতে অন্যান্য ফসল। যার মূল্য ১৫শ কোটি টাকার বেশী।

চলতি বছরে ২লাখ ২২হাজার ৫৫২হেক্টর লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন করা হয়েছে। পানি দেরীতে কমায় এ পর্যন্ত ১হাজার ২শত হেক্টর চাষ করা হয়েছে। তাহিরপুরের কৃষকগন খেলু মিয়া,রফিকুল ইসলাম,সাদেক আলী সহ হাওরবাসী বলেন,এবারও সময় নষ্ট করে প্রকল্প প্রস্তুত,অনুমোদন ও পিআইসি গঠন করা হচ্ছে আর নতুন নীতি মালা মানও মাইক বাজিয়ে বললেও কাজের কাজ কিছুই মানা হচ্ছে না।

১৫ডিসেম্ভর বাঁধ নির্মানের কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখনও শুরুই হয় নি। এবারও মনে হচ্ছে দুঃখের শেষ থাকবে না। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মাসুম বিল্লাহ জানান,এ উপজেলায় এখনো প্রকল্প গুলো অনুমোদন হয় নি। যার ফলে পিআইসির কমিটিও দেরী হচ্ছে। সব ঠিকঠাক করে অনুমোদন করে দ্রুত পাঠিয়ে দেব।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব জানান,আমার উপজেলায় পিআইসি গঠন করা শেষ ও অনুমোদন হয়েছে। চিটি দিয়ে পিআইসিদেরকে বলব ব্যাংক একাউন্ড খুলে টাকা তুলে কাজ শুরু করার জন্য। এছাড়া সকল কাজ সমাধানে সর্বোচ্ছ চেষ্টা করছি। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,এবার হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য প্রকল্প প্রস্তুত,অনুমোদন ও পিআইসি গঠন সহ সব কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজনীয়।

তা না হলে আমাদের হাওর পাড়ের কৃষকদের কষ্টের শেষ থাকবে না। সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,নতুন নীতি মালা অনুযায়ী ৩০নভেম্বরের মধ্যে সকল পিআইসি গঠন করার কথা কিন্তু এখনও শেষ হয় নি। খুব শীর্ঘই সব পিআইসি গঠনের তালিকা পেয়ে যাব। এ পর্যন্ত ১হাজার ৮৮টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। আরো শতাধিক প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। বরাদ্দের টাকা মন্ত্রনালয় ছাড় দিয়ে রেখেছে।

(আজকের সিলেট/২৪ ডিসেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন