১৫ মে ২০২২
ডেস্ক রিপোর্ট : টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে সিলেট নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পানি উপচে ঢুকে পড়ছে বাসা-বাড়িতে। এতে করে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন- যেখানেই জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে, সেখানে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে পানি অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। নগরীর পাঠানটুলা সিলেট-সুনামগঞ্জ রুট। নিচু এলাকা। প্রতি বৃষ্টির মৌসুমে জলজট দেখা দেয় ওই এলাকায়।
শনিবার দুপুরে পাঠানটুলা এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সড়কে পানি জমে হাঁটু পরিমাণ হয়ে যায়। এতে করে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে সিএনজি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস সহ হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
আজাদ মিয়া নামে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক জানিয়েছেন, বেলা ১১টার পর থেকে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। রাস্তার পানি উপচে আশপাশের এলাকায়ও ঢুকে পড়ে। এতে পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতেও পানি ঢুকে যায়। কয়েকটি বাসার নিচ তলায়ও পানি জমে। সিএনজি অটোরিকশা সহ হালকা যানবাহন ওই এলাকা দিয়ে পাড়ি না দিয়ে মদিনা মার্কেট হয়ে চলাচল করে। গত দু’দিন ধরে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা লেগেই আছে বলে জানান আজাদ মিয়া।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশল নুর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দুপুরের দিকে তিনি সহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা যান। পাঠানটুলা ও লাভলী রোডে পানি জমেছিল। ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নগরের উত্তর এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা নেই। দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাচ্ছে। তবে দক্ষিণ সুরমায় বাবুল নামে এক ব্যক্তি বাঁধ দিয়ে পানি যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এ কারণে দক্ষিণ সুরমায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পরে শ্রমিক দিয়ে সেই বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। সিলেট শহরে জলাবদ্ধতা দূর করতে প্রায় ৩শ’ শ্রমিক কাজ করছে বলে জানান নুর আজিজুর রহমান।
এদিকে নগরীর নাইওরপুল, শিবগঞ্জ, হাওয়াপাড়া সহ কয়েকটি এলাকায়ও দুপুরের দিকে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সিটি করপোরেশনের শ্রমিকরা পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন। তবে নগরের দক্ষিণ অংশের কয়েকটি এলাকায় ড্রেনেজ কাজ চলার কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট হয়েছে। এতে করে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে রয়েছে মানুষ।