৩০ এপ্রিল ২০২২


না ফেরার দেশে আবুল মাল আবদুল মুহিত

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে আবদুল মুহিতের বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

হাসপাতালটির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আজ রাত তার মরদেহ মরচুয়ারিতে রাখা হবে।

শনিবাট সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা, সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় তাঁর মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর দাফনের জন্য সিলেটে নেওয়া হবে।

এক নজরে আবুল মাল আবদুল মুহিত
১৯৩৪ সালে সিলেটে জন্ম নেয়া আবুল মাল আবদুল মুহিত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক, ভাষা-সৈনিক। অ্যাডভোকেট আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ ও সৈয়দ শাহার বানু চৌধুরী দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে তিনি। তার মাও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী মুহিত ১৯৫১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান, ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (অনার্স) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং ১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এমএ পাশ করেন। চাকুরিরত অবস্থায় তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নসহ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমপিএ ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস-এ (সিএসপি) যোগদানের পর মুহিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, কেন্দ্রীয় পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে তিনি পরিকল্পনা সচিব এবং ১৯৭৭ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগে সচিব পদে নিযুক্ত হন।

মুহিত পাকিস্তান পরিকল্পনা কমিশনের চীফ ও উপ-সচিব থাকাকালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্যের ওপর ১৯৬৬ সালে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করেন। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে এটিই ছিল এই বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন।

ওয়াশিংটন দূতাবাসের তিনি প্রথম কূটনীতিবিদ, যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১-এর জুন মাসে পাকিস্তানের পক্ষ পরিত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য প্রদর্শন করেন।

১৯৮১ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে তিনি অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফোর্ড ফাউণ্ডেশন ও ইফাদে কাজ শুরু করেন। ১৯৮২-৮৩ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো ছিলেন।

লেখক হিসেবে মুহিত সমান পারদর্শী। প্রশাসনিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে তার ২১টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনে তিনি একজন পথিকৃত এবং বাপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি মুহিত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত হন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যার ১০টি আওয়ামী লীগ সরকার আমলের।

আজকের সিলেট এর শোক প্রকাশ

সিলেটের কৃতিসন্তান, বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিলেট অঞ্চলে জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল আজকের সিলেট ডটকম এর প্রধান সম্পাদক এম. সাইফুর রহমান তালুকদার, সম্পাদক রজত কান্তি চক্রবর্তী, নির্বাহী সম্পাদক এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, যুগ্ন সম্পাদক সাদিকুর রহমান চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক মিজান মোহাম্মদ সহ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সকল সাংবাদিকবৃন্দ।

তারা এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সাংবাদিকবৃন্দ বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত ছিলেন দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ। তার মৃত্যুতে যে শূণ্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো পুরণ হবার নয়। তিনি শুধু সিলেটের মানুষের প্রিয়জনই ছিলেন না, তিনি ছিলের সারাদেশের মানুষের প্রিয় নেতা। এরকম ব্যাক্তিরা ক্ষণজন্মাই হয়।

 

আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এখন চেনাই দায়!

শেয়ার করুন