২২ এপ্রিল ২০২২
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : দোয়ারাবাজার উপজেলায় বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার কার্ড না পেয়ে প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদ ও সমাজসেবা অফিসে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে অসংখ্যা বয়স্ক,স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা নারীদের। এই উপজেলায় প্রতিবন্ধী ভাতার উল্লেখযোগ্য সংকট না থাকলেও শত শত বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীরা ভাতার আওতার বাইরে রয়েছেন।দুই বছর ধরে বয়স্ক,স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা নারীদের ভাতা বরাদ্দ না থাকায় ভাতার কার্ড প্রদান করা যাচ্ছেনা।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা সরকার ঘোষিত একটি প্রত্যন্ত উপজেলা। এ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের পর এ উপজেলায় আর কোন বয়স্ক,বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার বরাদ্দ আসে নি। সরকার ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১১২ টি উপজেলা ও ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১৫০টি উপজেলা শতভাগ বয়স্ক,বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার আওতায় আনলেও এই ২৬২ উপজেলার মধ্যে আসেনি হাওরাঞ্চলের এই উপজেলাটি।
এর ফলে ভাতা প্রত্যাশীদের অপেক্ষা বাড়ছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা সমাজসেবা অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই উপজেলায় বর্তমানে ১১হাজার ১৭৯জন ভাতা পাচ্ছেন।
প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগির সংখ্যা বর্তমানে ২হাজার ৭০৮ জন, বয়স্ক ভাতার সংখ্যা রয়েছে ৬হাজার ৩৪৪ জন,প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি -৭৪ জন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বিশেষ ভাতা-২৬ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষা উপবৃত্তি -১৪ জন।অন্যান্য ভাতার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়নো গেলেও দুই বছর ধরে বয়স্ক,বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা ভোগীর পরিমান স্থীর রয়েছে দুই বছর ধরে।
বোগলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিলন খান জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড মেম্বারদের মাধ্যমে এবং আমার নিকট সরাসরি প্রতিদিনই বয়স্ক,বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার জন্য অসংখ্যা মানুষ আসেন, কিন্তু দোয়ারাবাজার উপজেলায় দুই বছর ধরে বয়স্ক,বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতাভোগীর বরাদ্দ না থাকায় তাদের ভাতার কার্ড দিতে পারছিনা।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বয়স্ক,বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার কার্ড বরাদ্দ দুই বছর ধরে আসেনা।প্রতিদিন মানুষ ভাতার আবেদন নিয়ে আসে। ২৬২ টা উপজেলা শতভাগ ভাতার আওতায় এসেছে।আশা করি বাকি গুলোও দ্রুত শতভাগ ভাতার আওতায় আসবে। শতভাগ ভাতার আওতায় আসলে ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত এমন সবাইকে ভাতা দিতে পারবো বলে আশা করছি।