১২ এপ্রিল ২০২২


বাঁধের কাজের অনিয়ম খুঁজতে হাওরে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : পাহাড়ি ঢলে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় হাওরের বাঁধের কাজের অনিয়ম তদন্তে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা সালমা জাফরীন ৫ সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্ত দল সুনামগঞ্জের হাওর পরিদর্শন করছেন। এই তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হলেন- সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) দেবজিৎ সিনহা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মাহববুর রহমান, সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আওয়ার উল হালিম ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এনায়াত উল্লাহ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোবাশশেরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার এই তদন্ত দল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও তাহিরপুরের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করবেন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, ধর্মপাশার পর তদন্ত দল জেলার তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি এলাকা পরিদর্শনে যাবে। এই নজরখালি এলাকার একটি বাঁধ ভেঙে ২ এপ্রিল প্রথমে ফসলহানি ঘটে।

গত ৩০ মার্চ থেকে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জি থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পায়। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে জেলার সব হাওরের বোরো ফসল। ২ এপ্রিল প্রথমে তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যায়। এরপর একে একে ছোট–বড় আরও ১০টি হাওরের ফসলহানি ঘটেছে। তবে জেলার বড় বড় হাওরগুলোর ফসলের এখনো ক্ষতি হয়নি।

এদিকে ফসলহানি এবং বাঁধ নির্মাণে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের কমিটিও কাজ শুরু করেছে। গত রোববার সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও হাওরে বাঁধ নির্মাণ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এই তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন। কমিটি ২৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা হাওরের ফসল রক্ষায় দিনরাত কাজ করছি। এটা অন্যরকম এক যুদ্ধ বলা চলে। মাঝখানে পানি কিছুটা কমেছিল। কিন্তু এখন আবার বাড়ছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। অনেক স্থানে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবার ঢল এলে, পানির চাপ আরও বাড়লে, বাঁধগুলো ঠেকানো মুশকিল হবে।’

শেয়ার করুন