৯ এপ্রিল ২০২২


রোজায় সংযত আচরণ অবশ্য পালনীয়

Couple of glowing Moroccan ornamental lanterns on the table. Greeting card, invitation for Muslim holy month Ramadan Kareem, festive blue night background with glittering golden bokeh lights.

শেয়ার করুন

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : রোজা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেছেন যে, ‘এই সওয়াব আমি নিজে দেব’। হযরত আবু হুরায়রা বর্ণিত মুসলিম শরিফের হাদীস হচ্ছে, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, ‘মানুষের প্রত্যেকটি সৎকর্মের নেকি আল্লাহ গুণিতক করেন। দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি দান করেন। আর রোজার নেকি আল্লাহ নিজে দেবেন কোনো সীমা ছাড়া তার ইচ্ছানুসারে।’

রোজার মাসে অনেকেই শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু রোজায় অনেক গর্হিত ও অনুচিত কাজ থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করা হয়েছে। সেসব কাজ থেকে বিরত না থাকলে রোজা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হাদিসে এসেছে, এমন অনেক রোজাদার আছেন, যাদের রোজা পালন উপবাস করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আবার রাত জেগে ইবাদত করা এমন অনেক আবেদ আছেন, যাদের রাতজাগরণে কোনো ফল অর্জিত হয় না।’

রোজা বান্দার জন্য ঢাল স্বরূপ। যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা পরিহার করতে পারলো না কিংবা অন্যের সমালোচনা থেকে বিরত থাকতে পারলো না তার রোজা উপবাস ছাড়া কিছুই নয় বলেছেন রসুলুল্লাহ (সা.)। তাই রোজা ওই ব্যক্তির জন্য ঢাল, যে ব্যক্তিগীবত ও মিথ্যা পরিহার করতে পারল। সুতরাং রোজা রেখে মিথ্যা, গীবত, কড়া কথা, ঝগড়া-বিবাদসহ যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

রোজা রেখে পরস্পর ফাহেশা কথা বলা যেমন নিষিদ্ধ আবার অশ্লীল ভাষা ও বাদ্য-বাজনায় ভরপুর বিনোদন থেকে চোখ ও কানকে হেফাজত করা জরুরি। অশ্লীল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বেশি বেশি এ দোয়া পড়া-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

রমজানে সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করা সৎকর্মশীল বান্দার গুণ। তাই কোনো রোজাদারকে যেমন কোনো কষ্ট দেয়া উচিত হবে না, তেমন করো সঙ্গে রূঢ় আচরণ করাও ঠিক হবে না। সবার সঙ্গে ভালো আচরণ ও কল্যাণ কামনাই জরুরি। রহমত লাভে বেশি বেশি এ দোয়া পড়া-

رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صٰلِحًا تَرْضٰىهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ الصّٰلِحِينَ

উচ্চারণ : রাব্বি আওঝি’নি আন আশকুরা নি’মাতাকাল্লাতি আনআমতা আলাইয়্যা ওয়া আলা ওয়ালিদাইয়্যা ওয়া আন আ’মালা সালেহাং তারদাহু ওয়া আদখিলনি বিরাহমাতিকা ফি ইবাদিকাস সালিহিন।’ (সুরা নামল : আয়াত ১৯)

অর্থ : হে আমার প্রভু! আপনি আমার প্রতি ও আমার বাবা-মার প্রতি যে (রহমত) অনুগ্রহ দান করেছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমাকে শক্তি দান করুন আর যেন এমন (নেক আমল) সৎকাজ করতে পারি যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন আর আপনি দয়া করে আমাকে আপনার সৎকর্মশীল (নেক) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন।’

অর্থাৎ, রোজায় আচরণ সংযত করা অত্যন্ত জরুরি। রোজা রেখে না বেশি কথা বলা যাবে, না রূঢ় কথা কাউকে বলা যাবে। কথা যা বলা যাবে সেটাও হতে হবে অন্যকে কষ্ট না দেওয়ার মতো এবং অশ্লীলতা বর্জিত।

শেয়ার করুন