৮ এপ্রিল ২০২২
লাইফস্টাইল ডেস্ক : রোজাদারের ইফতার খাদ্যতালিকায় অন্য খাবারের সাথে ছোলা থাকবেই। এটা প্রতিটা ঘরেই দেখা যায়। পুষ্টিগুণ জেনে হোক, আর না জেনে হোক ছোলা ছাড়া যেন ইফতার অসম্পূর্ণ। না জেনে খেলেও ছোলার পুষ্টিগুণ আসলে অনেক। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। এতে আমিষ মাংস বা মাছের পরিমাণের প্রায় সমান। তাই খাদ্যতালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংসের প্রয়োজন পরে না।
ছোলার ডাল, তরকারিতে ছোলা, সেদ্ধ ছোলা ভাজি, ছোলার বেসন- নানান উপায়ে ছোলা খাওয়া যায়। তবে ছোলার ডালের তৈরি ভাজা-পোড়া খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো।
আসুন জেনে নেই কেন ছোলা খাবো-
১. ছোলা থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি পাওয়া যায়। যা দীর্ঘক্ষণ ধরে শরীরে শক্তির জোগান দেয়।
২. কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক যে কোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৩. ছোলা শরীরের অস্থির ভাব দূর করে। ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়। সুতরাং হঠাৎ যদি দেহের মধ্যে অস্থির অনুভব হয়। তাহলে ছোলা খেয়ে নিতে পারেন। দেখবেন উপকার পাবেন।
৪. ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায়, হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯ শতাংশ কমে যায়।
৫. ছোলা খাদ্যনালীতে ক্ষতিকারক জীবাণু দূর করে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমায়।
৬. ছোলার শর্করা দ্রুত রক্তে যায় না। তাই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ছোলা খুবই উপকারী খাবার। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল।
ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম।তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।
৭. ছোলার ফ্যাট শরীরের জন্য একেবারেই ক্ষতিকারক নয়। বরং রক্তের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
৮. কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে প্রোটিন ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। এটা শক্তি বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবান করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৯. ছোলা অল্প সময়েই হজম হয়ে যায়। আর ছোলার আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
১০. ছোলায় অনেক পরিমাণে ফলিক এসিড থাকায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।একটি গবেষণায় দেখানো হয়, যে সকল অল্পবয়সী নারী বেশি পরিমাণে
ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খান, তাদের হাইপারটেনশনের প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।
১১. শ্বাসনালিতে জমে থাকা পুরোনো কাশি বা কফ ভালো হওয়ার জন্য কাজ করে শুকনা ছোলা ভাজা।
১২. আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান
তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।
১৩. এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।
১৪. ছোলা মেরুদণ্ডের ব্যথা দূর করে। এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ কমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা।
১৫. ছোলা খেলে শরীরের জ্বালাপোড়া দূর হয়। সালফার নামক খাদ্য উপাদান থাকে এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমাতে অনেক সাহায্য করে থাকে। তাই জাদের হাতে পায়ে জ্বালা পোড়া অনুভব হয় তারা নিয়মিত ছোলা খান।
রান্না করা ছোলা যেমন উপকারী তেমনি কাঁচা ছোলাও উপকারী। তবে কিডনি রোগিদের ছোলা না খাওয়াই ভালো। ছোলা দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে সকলের নিয়মিত ছোলা খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন। তাই হজমশক্তি বুঝে ছোলা হোক পরিবারের শক্তি। এই রমজানে আপনার শক্তি ও পুষ্টির প্রধান উৎস হোক ছোলা।