৪ এপ্রিল ২০২২
আন্তু নাজনীন : ছোটোবেলায় মাকে দেখতাম, ভাইয়ের কপালে টিপ দিতো। মায়ের গলার সুরে এক সময় ভাইও গাইতে শুরু করলো, আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা… আমি বায়না ধরতাম আমার কপালেও টিপ চাই, মা। নজর লাগুক, একটু না হয় তোমার মেয়ের। মা হাসতেন। কৈশোরে পা রাখতেই টিপ পড়তাম কত রঙের। রঙ চিনলাম টিপের বাহারে।
টিপের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল পাকাপাকি। বাঙালি নারী টিপ ছাড়া চলে কী! কর্মক্ষেত্রে যাই, কিংবা পার্টিতে, বন্ধুদের আড্ডায়, ঘরের সাজেও আমার চাই টিপ। বাঙালি নারীর সাজের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো টিপ। নিজেকে বাঙালি সাজে সাজাতে চাইলে টিপের কোন বিকল্প নেই আমার কাছে। ছোটো, বড়ো, গোল, চ্যাপ্টা, কোনাকৃতি নানা আকারের টিপ পরা যেতে পারে। জামা কিংবা শাড়ির রঙের সাথে মিলিয়ে টিপ পরলে অন্য সাজ বা প্রসাধন প্রয়োজন হয় না অনেকক্ষেত্রেই।
তবে বেমানান সাজে টিপ পরা যাবে না। তাহলে টিপ পরার আসল সৌন্দর্যই নষ্ট হবে। ধরুন, পার্টিমেকাপে জমকালো সাজে ভারী শাড়ি-গহনায় টিপ না পড়লেও চলবে। কিন্তু নিতান্ত সাদামাটা সুতি শাড়ি না পরলে টিপ কিন্তু চাই-ই চাই।
কর্মক্ষেত্রে নানারকম ডিজাইন নিয়ে ব্যস্ত থাকি বলে, বাড়ি ফিরে এসবের মধ্যে আমার না থাকারই কথা। কিন্তু টিপ বানানো আমার নেশা। আমি নিজে হাতে টিপ বানাই, রঙ নিলে খেলি টিপ বানিয়ে। সাজে কপালের টিপ আমার কাছে নির্মল আনন্দের উৎস।
বাঙালি নারীর সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে টিপের নাম জাহির করলেও আসলে টিপ যে-কোনো নারীর একদম মোহনীয় সৌন্দর্য। একজন বিদেশি নারীকে টিপ পরিয়ে দেখবেন তার মুখটি রঙের বাহারে ঝলমল করে উঠবে। চোখ ফেরাবো না যাবে না এই অকৃত্রিম সৌন্দর্য থেকে। টিপের অকৃত্রিম সৌন্দর্য পহেলা বৈশাখে বেশি নজরে আসে। এত বাহারি টিপ ভাবা দায়। আজকাল শুধু মার্কেটে শপিং মলে নয়, টিপ পাওয়া যাচ্ছে অনলাইন উদ্যোক্তাদের কাছেও।
সাজের অনুষঙ্গে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা ফতুয়া-জিন্সের সাথে নানা রঙের নানা ঢঙের টিপ বাংলার সৌন্দর্য। আমার কপালের টিপ সব নারীর কপালেই মাতুক। লাল সবুজের বর্ণিল বাংলাদেশ নারীর কপালে টিপ ছাড়া ভাবা দায়।
(লেখক : আন্তু নাজনীন, সিনিয়র ফ্যাশন ডিজাইনার, আড়ং।)