২ এপ্রিল ২০২২


চেলা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-ফসলি জমি

শেয়ার করুন

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নে চেলা নদীর পার ভাঙতে শুরু করেছে। এর মধ্যে নদীর পারের পূর্বচাইরগাঁও ও সারপিন পাড়া গ্রাম অঞ্চলে ভাঙনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। গত ৩ দিনের ব্যবধানে চেলা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে চেলার পাড়ের অর্ধশতাধিক বিঘার ফসলি জমি। ভিটে-মাটি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সারপিন পাড়া থেকে শুরু করে পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের চাইরগাঁও বাজার মোড় হয়ে নাছিমপুর বাজার খেয়াঘাট পর্যন্ত চেলা নদীর তীরবর্তী এলাকা ভাঙনপ্রবণ। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে এসব এলাকার অর্ধশত পরিবার নিঃস্ব হয়। কিন্তু এ বছর বর্ষা শুরুর অনেক আগেই এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত এক সপ্তাহের বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বিঘার ফসলি জমি।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা জানান, চেলা নদীতে তীব্র স্রোত শুরু না হলেও বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে বেশ কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস থাকায় নদীতে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় ঢেউ। ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙছে চেলার পাড়। গত একসপ্তাহে নদীর পাড়ের সারপিন পাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও গাছপালা ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি তুলে ফেলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় আছেন।

সরেজমিনে চেলানদীর তীরে দেখা যায়, বাতাসে নদী প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে পাড়ে। ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাড় ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে। পাশেই কয়েকটি শূন্য ভিটা পড়ে আছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে, কয়েক দিন আগেও এখানে ছিল বসতবাড়ি। হয়তো নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে পরিবারগুলো অন্যত্র নিরাপদ জায়গায় অবস্থান করার পরিকল্পনা করছেন।

চেলানদীর পাড়ে কয়েকজন লোক নিয়ে পাহাড় থেকে আসা লাকড়ি খুজছিলেন ইসমাইল আলী ও আব্দুল মুতালিব। তাঁরা জানান, কয়েক দিন ধরে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস দেখা দেয়। এতে পাহাড় থেকে নেমে আসে পানি। আর এই সময় নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। আতঙ্কে স্থানীয় এলাকাবাসী।

এদিকে গত বছর ভাঙন শুরু হওয়ার পর নদীগর্ভে বিলিন হওয়া বসতভিটা হারিয়েছে পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের ১২ টি পরিবার। নদীর পাড় থেকে প্রায় ১০০ গজ ভেতরের দিকে কয়েক দিন আগেও কিছু ফসলি জমি ছিল বলে তাঁরা জানান।

চেলানদীর ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ বলেন, কয়েক বছরের ভাঙনে ইউনিয়নের দুইটি ওয়ার্ডের অধিকাংশ গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে ইউনিয়নের ভৌগোলিক সীমা দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। এলাকাবাসীর দাবি সত্ত্বেও ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

দোয়ারাবাজার উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতা শাফিউল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর সরেজমিনে চেলানদীর ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এবছর ভাঙ্গন শুরু হয়েছে বিষয়টি জানা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাবো।

শেয়ার করুন