১৪ ডিসেম্বর ২০১৭


বুদ্ধিজীবী দিবসে ‘আলোক সজ্জিত’ জালালাবাদ গ্যাস ভবন

শেয়ার করুন

মাসুদ রনি : ১৪ ডিসেম্বর বঙ্গালি জাতির জন্য চরম বেদনার দিন। এই দিনেই পাক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। জাতি মেধা শূন্য করার লক্ষে চালানো এই হত্যাযজ্ঞ জাতি আজো ভুলতে পারেনি।

জাতির জন্য এই বেদনার দিনেও যদি কেউ আনন্দ উল্লাস করে তা মেনে নেয়া যায়না। আর যদি কোন সরকারী ভবন আলোক সজ্জিত করা হয় তবে তো জাতির সাথে তামাশা করার সামিল।

বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে দিনভর সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। আর সন্ধ্যার পরই আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয় জালালাবাদ গ্যাস ভবন। এনিয়ে নগরজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে।

নগরবাসীর প্রশ্ন হচ্ছে- বুদ্ধিজীবী দিবসে জালালাবাদ গ্যাস ভবনের মতো একটি সরকারী অফিসে আলোকসজ্জা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না। ৭১ এর পেতাত্মারাই জাতির সাথে এই তামাশা করছে।

উপশহর এলাকার বাসিন্ধা মফুর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জালালাবাদ গ্যাস দেশবাসীর সাথে মশকারা করছে। সরকারের উচিৎ এদেরকে চিহিৃত করে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সমাজসেবক মোস্তাকুর রহমান জানান, এই ঘটনা নিঃসন্ধেহে নিন্দনীয় এর প্রতিবাদ জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। মুক্তিযুদ্ধের সাথে আমাদের আবেগ অনুভূতি জড়িত। ৭১ এর পরাজিত শক্তি এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা যখনই সুযোগ পায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্তের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের সরকার এখই যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন তবে একাত্তরের পরাজিত শক্তি আবারো মাথা নাড়া দিয়ে উঠবে।

বিষয়টি নিয়ে জালালাবাদ গ্যাস এর ওয়েব সাইটে দেয়া সেল ফোন (০১৭১১-৪০১৫৫৭ ) নাম্বারে কল দিয়ে জানতে চাইলে মৃণাল নামে একজন সহকারী প্রকৌশলী এবিষয়ে কথা বলতে চাননি। এমনকি কর্তৃপক্ষের অন্য কোন দায়িত্বশীলের নাম্বার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এক পর্যায়ে মৃণাল বলেন, বুদ্ধিজীবী দিবস আবার কি? বিজয়ের আনন্দে পুরো ডিসেম্বর মাসই আলোকসজ্জা করা যায়।

 

(আজকের সিলেট/১৪ ডিসেম্বর/এমআর/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন