১৪ ডিসেম্বর ২০১৭


জালালাবাদ হোমিও কলেজের অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত শুরু

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের জালালাবাদ হোমিও কলেজের বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে স্থানীয় সরকার সিলেটের উপ-পরিচালক দেবজিৎ সিংহ এই তদন্ত কাজ শুরু করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিএ নুরুল মুত্তাকিনকে কলেজের সকল কাগজাদি পর্যালোচনার জন্য কলেজ থেকে নিয়ে তদন্ত টিমের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। সাথে সাথে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালকে তদন্তের স্বার্থে সব ধরণের সহযোগিতা করার আদেশ প্রদান করেছেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজের শিক্ষক ডা. মো. নামর আলী এবং ডা. নুরুন্নাহার মজুমদারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার সিলেটের উপপরিচালক এই তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। শিক্ষকদ্বয় তাদের অভিযোগে উল্লেখ করেন, পরিবারতন্ত্রের আবর্তে নিমজ্জিত: হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে সিলেট বিভাগের একমাত্র সরকারী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ আজ পরিবারতন্ত্রে আবদ্ধ, কলেজ প্রতিষ্ঠাতার পরিবারই সর্বেসর্বা।

অথচ প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছরেও আধুনিকায়ন হয়নি এ প্রতিষ্ঠানটি। নেই স্থায়ী ক্যাম্পাস, অর্পিত সম্পত্তি একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। জরাজীর্ণ একচালা ঘরেই চলছে কার্যক্রম। এখনো বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। জীর্ণশীর্ণ ক্লাস রুমেই পাঠদান নিচ্ছে প্রায় ১১’শ শিক্ষার্থী।

প্রায় ২ বছর ধরে কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর পূর্বে ১৮৬০ সালের সোসাইটি এ্যাক্টে নিবন্ধিত পরিচালনা কমিটি দ্বারা পরিচালিত হত। অভিযোগ উঠেছে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দূর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি ঝিমিয়ে আছে। নগরীর মির্জাজাঙ্গালে ১৯৬৩ সনে মরহুম ড. হোসেন রাজা চৌধুরী ফারুকী জালালাবাদ হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় সাড়ে ১২ ডিসিমেল ভাড়াটে ভূমিতে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি আজো পায়নি স্থায়ী ক্যাম্পাস। ২০০১ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন ড. হোসেন রাজা চৌধুরী ফারুকী। প্রতিষ্টাতার মৃত্যুর পর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান ড. এম.বি খাঁন। ২০১১ সালে অবসরে যান ড. এম.বি খাঁন।

ঐ বছরই অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান প্রতিষ্ঠাতার বড় ছেলে ড. আব্দুল্লাহ ফারুকী চৌধুরী। তার অনুস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন কলেজের আরেক সাবেক অধ্যক্ষ ডা. এম.বি খানের পুত্র ডা. মুজাহিদ খান। কলেজটি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোডের্র অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

সরেজমিনে জালালাবাদ হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখা যায়, অগোছালো পরিবেশ। পর্যাপ্ত শ্রেণী কক্ষ নেই, পাঠদানের পরিবেশ নেই। পেছনে টিনশেডের ঘর ভেঙ্গে আধাপাকা ভবন নির্মানের প্রস্তুতি চলছে।

এছাড়া অন্যান্য অনেক সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে কলেজটি। অভিযোগ উঠেছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে এবং সুষ্ঠুভাবে পাঠদান ও ব্যবহারিক শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের মত একটি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দক্ষ না হয়ে শুধুমাত্র সনদ নিয়ে বের হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা । এখানে বিষয়ভিত্তিক স্থায়ী শিক্ষক চরম সংকটে।

এদিকে ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টি অনুসরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কলেজে কর্মরত সিনিয়র শিক্ষক ড. নুরুন নাহার মজুমদার। এ ব্যাপারে কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডা. মোজাহিদ খান তদন্ত কমিটির কথা স্বীকার করে জানান, তদন্ত কমিটি কলেজে এসেছিলেন, তারা সবকিছু তদন্ত করছেন। প্রাথমিক ভাবে তাদের কাছে কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি। তবে তারা কিছু কাগজপত্র চেয়েছেন এবং কিছু নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।

কলেজের নানান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন কলেজে বেশ কিছু বিষয়ে সংকট আছে এটা ঠিক তবে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। কাজ এগিয়ে চলছে। কলেজের শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অনেক কলেজে শিক্ষক সংকট থাকে এখানেও সেই রকম শিক্ষক সংকট আছে। তবে আমরা সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। এইজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি। তারা সেটা অনুমোদন করে নিলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হবে এবং নতুন শিক্ষক নেয়া হবে। ড. নুরুন নাহার মজুমদারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। যথাযত কাগজপত্র বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। বোর্ড তাদের নিয়োগ দিয়েছে। এতে কোনো অনিয়ম থাকলে বোর্ড ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগ দিতো না।

পরিবার তন্ত্রের ব্যাপারে তিনি বলেন, এখানে সকল নিয়োগ যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে। যোগ্যতার আলোকে কেউ যদি নিয়োগ পায় তাহলে সেটা তার যোগ্যতার ব্যাপার। এখানে কে কার আত্মীয় বা সন্তান সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়ার পর যদি কারো যদি কলেজ প্রতিষ্টাতা বা অন্য কারো সাথে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক বেরিয়ে যায় তাহলে সেটা অন্য বিষয় কলেজের সাথে এর আলাদা কোনো সম্পর্ক নেই।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার সিলেটের উপ-পরিচালক দেবজিৎ সিংহ জানান, কলেজের কিছু অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত কাজ শেষে আমরা বিস্তারিত জানাবো।

 

(আজকের সিলেট/১৪ ডিসেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন