১৮ জানুয়ারি ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক ও শাবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পঞ্চমদিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন । উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, প্রক্টরিয়াল কমিটি ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে সকাল থেকে ফের শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এসময় বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের এখন ‘একদফা এক দাবী, উপাচার্য কবে যাবি’।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য নিয়োগ দিতে আজ রাষ্ট্রপতি ও আচার্য বরাবরে চিঠি দেওয়া হবে। এ ছাড়া পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংও করা হবে আজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে অবস্থান নেওয়া ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট অফিসে রাষ্ট্রপতি বরাবর লিখিত খোলা চিঠিটি পোস্ট করবেন। এরপর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি রোড পেইন্টিং করবেন বলে জানান তারা। রাষ্ট্রপতি বরাবর খোলা চিঠি পাঠানোর ৪৮ ঘণ্টার ভিতরে উপাচার্যের পতন নিশ্চিত না হলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা বলে জানান তারা। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা গোল চত্বরেই অবস্থান করছেন।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ, হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। গত শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রীদের কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। এর পর পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে থাকে।
গত রোববার দিনভর আন্দোলনে উত্তাল ছিল শাবি। এর মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। তাকে উদ্ধারে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। তাদের রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্ডে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন।
পুলিশের সহায়তায় মুক্ত হয়ে শাবি উপাচার্য বসেন জরুরি সিন্ডিকেট সভায়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গত সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করেন। তারা কাল রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর গতকাল সোমবার সকাল থেকে ফের আন্দোলন শুরু হয় শাবিতে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আন্দোলনে শাবি এখন উত্তাল। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে কয়েক দফায় বিক্ষোভ করেছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা একযোগে শাবির বঙ্গবন্ধু হল, সৈয়দ মুজতবা আলী হল, প্রথম ছাত্রী হল ও বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী (দ্বিতীয় ছাত্রী হল) হলে তালা লাগিয়ে দেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শাহপরান হলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। শাবিপ্রবি প্রশাসনের কাউকেই হলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এদিকে, শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদারকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রোববারের ঘটনা খতিয়ে দেখতে এই কমিটি করা হয়েছে। দ্রুত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’ সোমবার বিকালে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। তখন পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষার্থীরা রাতেও আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। রাত ২টার দিকে দেওয়া হয় বিরতি। আজ সকাল থেকে ফের শুরু হয়েছে আন্দোলন।