৭ জানুয়ারি ২০২২


‘ভোগান্তির’ শেষ নেই শাহজালাল বিমানবন্দরে

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোগান্তির শেষে নেই। প্রতিদিন ফ্লাইট শিডিউলে বিপর্যয়, করোনা টেস্টের জন্য দীর্ঘ লাইন, স্বল্পসময়ে অধিক ফ্লাইট ওঠানামা, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, যাত্রীদের স্ক্যান করার পরও কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে আলাদাভাবে তল্লাশি, লাগেজ পেতে বিড়ম্বনা, পার্কিং বিড়ম্বনায় পড়ছেন যাত্রীরা।

সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সরেজমিন ঘুরে ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে এমন ভোগান্তির কথা জানা যায়।

জানা গেছে, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় ‘স্থাপনা নির্মাণ’ কাজের কারণে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা রানওয়ে বন্ধ রাখছে কর্তৃপক্ষ। এভাবে টানা ৬ মাস ফ্লাইট উঠানামা বন্ধ থাকবে। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের পর বিমানবন্দরে যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। তাই ভোগান্তি আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে একসঙ্গে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এসে নামলে যাত্রীসেবা এলোমেলো হয়ে পড়ে। একটি মাত্র স্ক্যানিং যন্ত্র থাকার কারণে বিদেশফেরত যাত্রীদের লাগেজ স্ক্যানিংয়ে সময় লাগে। সেখানে যাত্রীদের দীর্ঘ সারিতে পড়তে হয়। উড়োজাহাজ থেকে বেল্টে মালামাল আসতে বেশি সময় লেগে যায়। মধ্যপ্রাচ্য ও কলকাতা থেকে আসা যাত্রীদের তল্লাশির মুখে পড়তে হয় বেশি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রী ও তাদের স্বজনরা বিমানবন্দর এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্ট অবস্থান করছেন। অনেকেই বিদেশ যাত্রা করার জন্য আবার অনেকেই বিদেশ ফেরত যাত্রীদের বাড়ি নিতে বিমানবন্দরে এসেছেন। কিন্তু সহজ-সরল হাজারো মানুষ গাড়ি ব্যবসায়ী ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কথিত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও থেমে নেই এদের উৎপাত। উল্টো যাত্রী ও স্বজনরা নিরাপত্তা কর্মীদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মশা মারার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। একাধিক কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু বিমানবন্দর যেন হয়ে গেছে মশার খনি। ক্ষুদ্র প্রাণী মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ যাত্রী ও তাদের স্বজনরা।

একাধিক যাত্রী দু:খ করে বলেন, বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশে রেমিটেন্স পাঠাই; অথচ ছুটিতে দেশে এলে বিমানবন্দরেই দুব্যবহার করা হয়। প্রবাসে শ্রমিকের কাজ করি বলে আমাদের যাত্রী হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হয় না।

জেদ্দা থেকে আসা সামছু মিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, বিমানবন্দরে আসার পর ইমিগ্রেশনে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এরপর ট্রলি না পেয়ে লাগেজ মাথায় করে নিয়ে বাইরে আসি। সেখানে আসার পর মাইক্রোবাসের চালকরা আমাকে নিয়ে টানাটানি শুরু করে। এক পর্যায়ে অনেক কষ্টে তাদের কাছ থেকে রক্ষা পাই। পরে লাগেজটি মাথায় করে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করি।

রাজিব মিয়া নামের আরেক যাত্রী বলেন, সম্প্রতি তিনি মালয়েশিয়া থেকে দুটি লাগেজ নিয়ে দেশে আসেন। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে একটি লাগেজ নিয়ে বাসায় ফিরলেও আরেকটি লাগেজের কোনো সন্ধান পাননি। সংশ্লিষ্টদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ওই লাগেজটি পাননি তিনি। তবে লাগেজটি না পাওয়াতে ইতোমধ্যে লিখিত একটি অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, বিমানবন্দরে জনবল বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই। তারপরও কোনো ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার হলে লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন