৯ ডিসেম্বর ২০১৭
বিশেষ প্রতিবেদক : হাকালুকি হাওর পারের কৃষকেরা বন্যায় ফসল হারানোর ক্ষতি পুষিয়ে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন ঠিক তখনই বোরো ধানের বীজতলায় পোকা আক্রমণ করেছে। গত দুই বছর বন্যায় পাকা আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় হাওপারের কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
দুই সপ্তাহ আগে থেকে বীজতলা প্রস্তুত করে কৃষকরা বোরো ধানের বীজ বপন করেন। কিন্তু অঙ্কুর গজাতেই পোকার আক্রমণে হাজারো কৃষক চরম হতাশায় ভুগছেন। তারা চারা রোপন নিয়ে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় আছেন।
এদিকে বালিকুড়ি ও পটই বিলের নিম্নাঞ্চলে বাঁধ না থাকায় বিল দু’টির চর্তুদিকের সহস্রাধিক বিঘায় পানির অভাবে বোরো ধান রোপনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পোকায় আক্রমণে বোরো চাষীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করলেও হাওরাঞ্চলে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার তালিমপুর, সুজানগর, বর্নি, দাসেরবাজার, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির প্রায় ১০ হাজার কৃষক হাকালুকি হাওরপারে বোরো ধানের আবাদ করতে বীজ বপন করেন। কিন্তু বীজতলায় চারা গজানোর সাথে সাথেই এক ধরনের পোকা আক্রমণ শুরু করে। হাজার হাজার পোকা বীজতলায় ঢুকে বোরো ধানের অঙ্কুর খেয়ে ফেলছে। এতে কৃষকেরা ধান রোপন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। চারাই যদি না থাকে তবে তারা কি রোপন করবেন।
সরেজমিনে গিয়ে হাওরপারের বোরো ধানের বিভিন্ন বীজতলা ঘুরে দেখা গেছে, বীজ বপনের পরই পার্শবর্তী পতিত ভুমি থেকে ২-৩ ইঞ্চি সাইজের বাদামি রঙের একধরনের পোকা ধান থেকে বের হওয়া অঙ্কুর খেয়ে ফেলছে।
কৃষক অনন্ত দাস, সুধাংশু দাস, সুভাস দাস, মনোরঞ্জন বিশ্বাস প্রমুখ জানান, বালিকুড়ি ও পটই বিলের পারে বোরো ধান লাগানোর বীজতলা তৈরির জন্য গত সপ্তাহে বীজ বপন করেন। অঙ্কুর বের হতেই বীজতলায় পোকা আক্রমণ করছে। একদিনেই সমস্ত চারা খেয়ে ফেলছে। হাওরপারের সব বীজতলায় এ ধরনের পোকায় আক্রমণ করায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন।
বোরো চাষীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করলেও হাওরাঞ্চলে স্থানীয় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে হাকালুকি হাওরের বিলকুড়ি ও পটই বিলে বাঁধের অভাবে বিল দু’টির চতুর্দিকের সহস্রাধিক জমিতে পানির অভাবে বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন জানান, বোরো ধানের বীজতলায় পোকার আক্রমণে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। কৃষি বিভাগ কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। হাওরাঞ্চলের সব ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
(আজকের সিলেট/৯ ডিসেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)