১৯ ডিসেম্বর ২০২১
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারনা জমে উঠেছে সিলেটর বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ ইউনিয়নে। তবে প্রচারনায় এগিয়ে আছেন বিদ্রোহী ও সতন্ত্র প্রার্থীরা আর আঞ্চলিকতার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন নৌকার মাঝিরা। বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।
জানা যায়, বেশিরভাগ ইউনিয়নেই আওয়ামিলীগের দলিয় প্রার্থীর পক্ষে না গিয়ে বিদ্রোহী ও সতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কর্মী সমর্থকরা। কর্মী সমর্থকদের নৌকার পক্ষে আনতে বিফল হচ্ছেন নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতিক দেয়াটা চরম ভুল হয়েছে, যদি সকল দল দলিয় প্রতিকে নির্বাচন করতো তবে সমস্যা হতো না কিন্তু ,এখন সবাই নৌকা ডোবাতে একজোট হয়ে নেমেছে। এক দিকে বিদ্রোহী প্রার্থী অন্য দিকে আঞ্চলিকতা এ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে দলের ঐক্য যার প্রভাব পড়বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ সকল নির্বাচনে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয় ঘুরে দেখা যায় আঞ্চলিকতার কারনে মুখ খুলছেন না আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা আর সমন্বয় না থাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ,কৃষক লীগ,শ্রমিক লীগ সহ দলিয় কর্মীরা রয়েছেন বিচ্ছিন্ন এর সুফল নিচ্ছেন বিদ্রোহী ও সতন্ত্র প্রার্থীরা। কোন কোন ইউনিয়নে নেতা কর্মীরা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যোগাযোগ না রাখা ও প্রচার প্রচারনার জন্য অর্থ যোগান না দেয়া সহ নানান অভিযোগ করেন। একটি ইউনিয়নের একজন দায়িত্বশিল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন প্রার্থীর পকেটে সাপ ঢুকে গেছে এভাবে কি নির্বাচন হয়?
উপজেল আওয়ামিলীগ এর একজন সিনিওর দায়িত্বশীল নেতা জানান উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র শেওলা ইউনিয়ন ছাড়া আর সব ইউনিয়নেই সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে, ৩ টি ইউনিয়নে সরাসরি বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন বাকি সবকটিতে দলিয় একাধিক প্রার্থী রয়েছেন যে কারনে প্রতিটি ইউনিয়নেই বিচ্ছিন্ন রয়েছে আওয়ামিলীগ। সরেজমিনে গিয়েও তার একথার সত্যতা পাওয়া যায় । কোনকোন ইউনিয়নে নৌকার নির্বাচনি অফিসে বসার মতো লাক নেই, প্রচার প্রচারনায়ও পিছিয়ে আছেন নৌকার প্রার্থীরা। আবার কোন ইউনিয়নে প্রার্থী একা একা ঘুরছেন দলীয় নেতা কর্মী ছাড়া। মোট কথা আওয়ামিলীগ এর নৌকা প্রতিকের কাজে কোন গতি নেই। অনেকটা দায় সারা গোছের কাজ চলছে সব ইউনিয়নে।
উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১ নং আলীনগর ইউনিয়নে নৌকার প্রর্থী আহবাবুর রহমান শিশু এখানে তার শক্ত প্রতিপক্ষ বর্তমান চেয়ারম্যান মামুন জায়গীরদার এখানে সতন্ত্র প্রার্থী ছাদেক আহমদ চৌধুরী নৌকার জয়ের পথে কাটা হয়ে দাড়িয়েছেন। চারখাই ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মাহমুদ আলীর জয়ের পথে প্রধান অন্তরায় আওয়ামীলীগেরই সতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মুরাদ চৌঃ। শেওলা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একমাত্র প্রার্থী জুহুর উদ্দিন। এখানে তার প্রতিপক্ষ বি এন পি দলিয় সতন্ত্র প্রর্থী জাহেদ খান। এই উনিয়নে নৌকার সম্ভাবনা অনেকটা নিশ্চিৎ।দুবাগ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের জয়ের পথে বাধা হয়ে দড়িয়েছেন একই দল ও গোত্রের কমর উদ্দিন ও সতন্ত্র প্রার্থী মুস্তাক আহমদ।
কুড়ারবাজার ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মোঃ বাহার উদ্দিন। এখানে তার শক্ত প্রতিপক্ষ বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের। এর মধ্যে আবার আওয়ামীলীগের সতন্ত্র প্রাথী আব্দুল মুমিত ও তুতিউর রহমান তার ভোটে ভাগ বসিয়েছেন।
মুড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রর্থী হুমায়ূন কবির। এখানে তার শক্ত প্রতিপক্ষ জামাত সমর্থীত প্রার্থী ফরিদ আল মামুন আর নিজ দলের ও গ্রামের সতন্ত্র প্রার্থী রুহুল আমিন হতে পারেন নৌকার পরাজয়ের কারণ।
মাথিউরা ইনিয়নে আওয়ামীলীগের একক প্রর্থী আমান উদ্দিন। এখানে তার প্রতিপক্ষ বিএনপি সমর্থীত প্রার্থী কছির আলী। আঞ্চলিকতা ও দলিয় কোন্দল নিয়ন্ত্রন করতে পারলে এখানে তার জয়ের সম্ভাবনা আছে।
তিলপাড়া ইউনিয়নে নৌকার মাঝি সাবেক চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন। এখানে তার শক্ত প্রতিপক্ষ দুইবারের নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান। এছাড়া এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী বিবেকান্দ দাস নৌকার বিজয়ের প্রধান অন্তরায়।
মুল্লাপুর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হাজি শামিম আহমদ । এখানে তার শক্ত প্রতিপক্ষ বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। তাছাড়া হাজি সেলিম উদ্দিন ও আব্দুল করিম নামের দুজন সতন্র প্রার্থী রয়েছেন এই ইউনিয়নে। আঞ্চলিকতা হতে পারে এ ইউনিয়নে নৌকার বিজয়ের অন্তরায়।
লাউতা ইনিয়নে আওয়ামীলীগ দলিয় প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ জলিল। এখানে তার শক্ত প্রতিপক্ষ বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিদ্রোহী প্রাথী গৌছ উদ্দিন। এছাড়া এখানে জামাত সমর্থিত প্রর্থী দেলোয়ার হোসেন হতে পারেন নৌকার বিজয়ের অন্তরায়। এই হলো বিয়ানীবাজারের ১০ টি ইউনিয়নের চিত্র। একমাত্র শেওলা ইউনিয়ন বাদে আর সব ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের জয়ের পথে বাধা বিদ্রোহী প্রার্থী কিংবা আওয়ামীলীগেরই সতন্ত প্রার্থী ও আঞ্চলিতা।
এ অবস্থায় নৌকার বিজয় নিশ্চিৎ করতে কি করছে উপজেলা আওয়ামীলীগ তা জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান খান ও সাধারন সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল বলেন তিনটি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন এছাড়া কয়েকটি ইউনিয়নে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগের কয়েকজন নির্বাচন করছেন যা বিব্রতকর, আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিৎ করতে। আশা করি সকল মান অভিমান আঞ্চলিকতা ভুলে নৌকার বিজয় নিশ্চিৎ করবেন দলিয় নেতা কর্মীরা ।