১৭ ডিসেম্বর ২০২১


টিলাগড়ে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেন মুক্তিযোদ্ধা ছিদ্দিক আলী

শেয়ার করুন

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : শিক্ষিত-অশিক্ষিত, কর্মজীবী-বেকার, নারী-পুরুষ ও ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ আত্মপরিচয় ও মর্যাদার প্রশ্নে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারই একজন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিদ্দিক আলী। উপজেলার বাগুনীপাড়ার মৃত কলিম উল্লার ছেলে মো. ছিদ্দিক আলীর বাড়িতে বসেই শুনা হলো তাঁর বীরত্বের গল্প।

ছিদ্দিক আলী জানান, একাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চের ভাষণ শোনার পর মনের স্পন্দন জাগ্রত হয়, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রেরণা যোগায়। তখনকার সময় তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম ষোলশহরের সেনা ক্যাম্পে। সেখান থেকে ২৫ মার্চ রাত থেকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট, রামগড়সহ বিভিন্ন স্থানে পাকসেনাদের সাথে লড়াই করে ভারতের হরিণায় ক্যাম্পে ১ মাস অবস্থান নেন। পরে শিলং গুয়াহাটিসহ ভারতের বিভিন্ন অবস্থান করে ময়মনসিংহ ও রংপুরের সীমান্ত এলাকার কামালপুর ও রউমারিতে লড়াই করে আবারও ভারতের করিমগঞ্জে যান। সেখান থেকে জকিগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সিলেটের টিলাগড়সহ বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ সমরে লড়াই করেন ।

মুক্তিযোদ্ধা ছিদ্দিক আলী বলেন, সিলেটের টিলাগড় ও জকিগঞ্জ এবং কানাইঘাটের মাঝখানের আটগ্রামে লড়াইয়ে অনেক পাকসেনা নিহত হয়। এছাড়া পাকদের সাথে তুমুল লড়াই হয়েছে চট্টগ্রামের রামগড় ও ভারতের সাবরুমে। বিজয় নিয়ে ১৬ ডিসেম্বর তিনি শ্রীমঙ্গল সেনাবাহিনী ক্যাম্পে আসেন। সেনাবাহিনীর কর্পোরাল পদে প্রায় ১৮ বছর দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ১৯৮৯ সালের ২৫ মার্চ অবসরে আসেন।

বলেন, কখনো ছেড়া প্যান্ট, কখনো লুঙ্গি আর টুপি কিংবা হুজুরের বেশ ধরে যুদ্ধ করতে হয়েছে। আমার শরীরে বেশ কিছু দাগ স্মৃতি হিসেবে রয়েছে। হাত পা দিয়ে হামাগুড়ি দিতে দিতে জীবন বাচাতে কখনো কখনো পাড়ি দিতে হয়েছে পাহাড়। পায়ে ও কনুইতে এখনো কালো দাগের চিহ্ন রয়েছে।

বর্তমানে কৃষিকাজে নিয়জিত থাকা এ বীরের পরে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তার দুই ছেলের একজন মনসুর আহমেদ শিপন যিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ও অন্যজন আলী আহমেদ (আলী) বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত রয়েছেন।

প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ছিদ্দিক আলী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ দেখতে চান। আর জাতির জনকের ইচ্ছা পূরণে কাজ করায় তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন