৮ ডিসেম্বর ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : তিনজনই সিলেটে ক্ষমতাশীন দলের প্রভাবশালী নেতা। তিনজনের নামের শেষেই রয়েছে ‘উদ্দিন’। এর মধ্যে দুইজন সরাসরি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্যক্রমের সাথে জড়িত। চেম্বারের আসন্ন নির্বাচনে এই তিন ‘উদ্দিন’ হয়েছেন একজোট। যেকোন মূল্যে সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের সমর্থিত সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের পূর্ণ প্যানেলকে বিজয়ী করতে চান। সুষ্ট, নিরপেক্ষ ও গ্রহযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজনে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতেও প্রস্তুত রয়েছেন তারা।
বলছিলাম সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ এবং সিলেট জেলা বারের পিপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিনের কথা।
এর মধ্যে নাসির উদ্দিন খানের রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াও তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির চলতি মেয়াদে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সিলেট চেম্বারকে উপহার দিয়েছিলেন একটি স্বচ্চ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন।
আসন্ন নির্বাচনে সিলেট ব্যাসায়ী পরিষদের প্যানেলকে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, ‘সিলেট চেম্বারের বর্তমান নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড যে ভূমিকা পালন করেছে; তাতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে এই প্যানেলের অভিজ্ঞ স্বনামধন্য ব্যাবসায়ীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন বোর্ড, যা প্রশ্নবিদ্ধ। এই নির্বাচন বোর্ড তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।
সুষ্ট নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে ফাটল ধরালে এর দায়ভার নির্বাচন বোর্ডকে নিতে হবে। নাসির উদ্দিন খান আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়ার আহবান জানান। ’
সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাহিরেও বড় পরিচয় হল তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে সিলেট চেম্বারের কিছু বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষুব্দ তিনি।
সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীদের জন্য ভোট চেয়ে সিলেট চেম্বারের সাবেক প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন বোর্ড অন্যায়ভাবে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি করেছে। যেটি তাদের ইখতিয়ারে নেই, সেটিও করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, নির্বাচন বোর্ড একপেশে ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে। যদি ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয় তাহলে এর প্রভাব সরকারের উপরও পড়বে।’
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন সরাসরি সিলেট চেম্বারের সাথে জড়িত না থাকলেন চেম্বারের বর্তমান বোর্ড ও নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের একপেশা ভূমিকার কারনেই তিনিও ক্ষুব্দ রয়েছেন। তার মতে, ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দেবেন প্রকৃত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা। সবকিছুতে দল ও মত টেনে আনা সঠিক নয়।
সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের পুর্ণপ্যানেলকে সমর্থন দিয়ে তিনি বলেন, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বর্তমান নির্বাচনী বোর্ডের কর্মকান্ড রহস্যজনক। বোর্ডের সদস্যরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। তাই এসব কর্মকান্ডের জবাব ভোটের মাধ্যমে দিতে হবে।