৫ ডিসেম্বর ২০২১


অসচেতনতার কারনেই প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে দিন দিন বেড়েই চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। সিলেটের সড়ক মহাসড়ক গুলো যে যাত্রীদের কাছে মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি যানবাহন যেন সর্বোচ্চ গতিতে ধেয়ে আসা একেকটি মৃত্যুদূত। চোখের পলকে ঘটে যায় দুর্ঘটনা, ঘটে মৃত্যু। যে কারণে এই সড়কে দুর্ঘটনায় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। মৃত্যুর মিছিলে শামিল হচ্ছেন সব শ্রেণি পেশা ও বয়সের মানুষ। দুর্ঘটনায় অনেকেই হারাচ্ছেন আপনজনদের। অকালে অস্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হচ্ছে অনেকেই। স্বজন হারানোর আর্তনাদে ভারি হচ্ছে বাতাস। পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকলেও অনেক পরিবারের নেমে এসেছে আর্থিক কষ্টও।

আইনের যথেষ্ট প্রয়োগ না থাকা এবং অসচেতনতা ও অদক্ষ চালকের কারণেই সিলেটের সড়ক এতো ভয়ংকর। চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্যই এ সড়কে অকালে ঝরছে অনেক তাজা প্রাণ। একটি দুর্ঘটনার রক্তের দাগ শুকানোর আগেই আরেকটি প্রাণের বিনিময়ে রক্তে লাল হয় এ সড়কের কোন না কোন স্থান।

গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৪জনই মটরসাইকেল আরোহী। আর ছোটবড় অনেক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেক।

জানা যায়, ১৩ অক্টোবর বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বাসচাপায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অপর একটি মোটরসাইকেলের আরও দুই আরোহী। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের মনবেগ-নোয়াগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- ছাতক উপজেলার কৈতক গ্রামের আঙ্গুর মিয়ার ছেলে লায়েক আহমদ (২০), জালাল উদ্দিনের ছেলে হৃদয় হোসেন ও সফিক মিয়ার ছেলে জামিল আহমদ (২১)।

স্থানীয়রা জানান, দুটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচজন যুবক ছাতক উপজেলার কৈতক থেকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় দ্রুতগামী একটি ‘ঢাকাইয়া বাস’ মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তিন আরোহী নিহত হন। অন্য মোটরসাইকেলের দুই আরোহী সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনাও ঘটেছে বেপরোয়া গতির কারণে।

এদিকে এরপর দিন ১৪অক্টোবর সকালে সুনামগঞ্জের সদর উপজেলায় রাস্তা পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রেজিয়া খাতুন (৮০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের নীলপুর বাজারে। নিহত রেজিয়া খাতুন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষনশ্রী ইউনিয়নের রাবারবাড়ি এলাকার মৃত এরশাদ আলীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বদ্ধা নীলপুর বাজারে রাস্তা হওয়ার সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই বৃদ্ধও নিহত হন মটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির কারণে।

এর কিছু দিন পর এ মাসের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরে প্রাইভেট কার ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক সহ গোলাপগঞ্জের ২ জন নিহত হন। ২৯অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

এসময় ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে আক্তার হোসেন (৩৫) ও গোলাপগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী, ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হাজীপুর ঘনশ্যাম গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আব্দুস শুকুর (৪৯) নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাপগঞ্জ থেকে সিএনজি অটোরিকশা করে দরবস্ত বাজারে শিম নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে সিলেট তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আসামাত্র জাফলং হতে ছেড়ে আসা সিলেটগামী প্রাইভেটকার (ঢাকা-মেট্রে-ল- ২৯-৫৪৩৩) এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক আক্তার হোসেন ও ব্যবসায়ী নূর মিয়া মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, দুর্ঘটনার সময় পুলিশ সিএনজি অটোরিকশাকে কাগজপত্র চেক করার জন্য আটকাতে বলে। কিন্তু ওই চালক গাড়ি না আটকিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে অপর দিক থেকে আসা প্রাইভেট কারের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ কারণেই দুটি প্রাণ চলে যায়।

সিলেটে প্রায় সকল সড়ক দুর্ঘটনাই অসচেতনতা, বেপরোয়া গাড়ির গতি, অদক্ষ চালকদের কারণেই হয়ে তাকে। এত সড়ক দুর্ঘটনা হলেও সচেতন নয় পথচারীরা। তার প্রায়ই অসচেতন ভাবে সড়কে চলাফেরা করে। সিলেটের প্রায় দেখা যায়, মোবাইলে কথা বলে সড়ক পারাপার হচ্ছেন পথচারীরা। শুধু পথচারীরাই নয় চালকরাও মোবাইলে কথা বলে চালাচ্ছেন গাড়ি। মানছেন না ট্রাফিক সিগনাল।

শেয়ার করুন