২৬ নভেম্বর ২০২১


কমলগঞ্জে আলোচিত রাসেল হত্যারহস্য উদঘাটন

শেয়ার করুন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানের পশ্চিম লাইনের নিজ বাড়ি থেকে গত ১৯ নভেম্বর রাতে নিখোজ হয়েছিলেন চা শ্রমিক রাসেল মিয়া (২৮)। পরদিন শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে আমঘাট নামক পাহাড়ি ছড়া থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ৬ দিন পর সূত্রহীন এই হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকারীসহ ২ জনকে বৃহস্পতিবার আটক করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। তারা হলেন, পাত্রখোলা চা বাগানের পশ্চিম পাড়ার দুলাল মুন্ডা (৩২) ও তার সহযোগী রঞ্জিত কুর্মী (৩০)।

কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জানান, আলোচিত এই মামলাটি ছিল একেবারেই ক্লুলেস। আমরা হত্যারহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করি।

মামলার তদন্ত শুরুর মাত্র ৬ দিনের মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে পাত্রখোলা চা বাগানের পশ্চিম লাইন এলাকার মাংরা মুন্ডার ছেলে দুলাল মুন্ডা ও তার সহযোগী রঞ্জিত কুর্মীকে আটক করা হয়।

এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে রাতেই পুলিশ তাদের দু’জনকে মৌলভীবাজার মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের কাছে উপস্থিত করলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীর মাধ্যমে কি কারণে এই হত্যাকান্ড ঘটায় তার বর্ণনা দেয়।

দুলাল মুন্ডা জানায়, হত্যাকান্ডের সপ্তাহ দশেক আগে নিহত রাসেলের খালাতো ভাই মন্নানের সাথে রাস্তায় সিএনজি অটো পার্কিং নিয়ে উভয়পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পর রাসেলের সাথেও আমার বাকবিতন্ডা হলে সে আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। তখন থেকে আমি ও বন্ধু রঞ্জিত রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মণিপুরি মহারাসলীলা উৎসবের রাত ১২টার দিকে রাসেলের সাথে তাদের দেখা হলে তাকে ফুসলিয়ে মদ্যপান করিয়ে পাত্রখোলা চা বাগানের পাশে পশ্চিম লাইন আমঘাট নামক স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে রাত দেড়টার দিকে রঞ্জিত রাসেলের পা চেপে ধরে আর দুলাল তার ঘার ভেঙে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ পাহাড়ি ছড়ায় ফেলে চলে যায়।

কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা রাসেল হত্যাকান্ডে দুই আসামীকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধারকালেই রাসেলের বাবা বাচ্চু মিয়া লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

শেয়ার করুন