৯ নভেম্বর ২০২১


সিলেট চেম্বারের ‘ভোটার তালিকায়’ জালিয়াতির অভিযোগ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে বর্তমান পরিচালনা বোর্ডে সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পরিচলকদের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় জালিয়াতি করার অভিযোগ তুলেছেন সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের পরিচালক প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে তারা একাধিকবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকেও বিষয়টি জানিয়েছেন। তার পরও নিবর রয়েছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। এমন অভিযোগ পরিচালক প্রার্থীদের।

সর্বশেষ সোমবার তারা ভূয়া ভোটারদের একটি তালিকা সম্বলিত লিখিত অভিযোগও দাখিলে করেছেন সিলেট চেম্বারের সম্ভাব্য পরিচালক প্রার্থী জহিরুল কবির চৌধুরী শিরু, মো. রুহুল আলম, শান্ত দেব, ফাহিম আহমদ চৌধুরী, মো. আব্দুস সামাদ, দেবাংশু দাস, মো. আবুল হোসেন ও মারুফ আহমদ।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট চেম্বারের বর্তমান পরিষদের সভাপতি সহ একাধিক পরিচালকের যোগসাজসে অন্তত অর্ধশত ভূয়া ভোটার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জন ভূয়া ভোটারের তালিকাও অভিযোগের সাথে জমা দেয়া হয়েছে।

এমতাবস্থায় সিলেট চেম্বারের সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সংশয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন পরিচালক। তাদের দাবী হচ্ছে অভিলম্বে চেম্বারের ভোটার তালিকা থেকে ভূয়া ভোটারদের বাদ দিতে হবে। অন্যতায় তারা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।

অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে ৪৫৫২ নং সিরিয়ালে থাকা ভোটার আহমেদ শরিফ মনির ফোন নাম্বারে কল দেয়া হলে নোয়াখালীর লক্ষীপুর এলাকার কুহিনুর বেগম নামে এক মহিলা ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, মীর এন্টরপ্রাইজ নামে কোন প্রতিষ্ঠানকে তিনি আদৌ চিনেনা। এমনকি আহমেদ শরিফ মনি নামে কোন ব্যক্তির সাথেও তার পরিচয় নেই।

অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে ৪৫৬২ নং সিরিয়ালে থাকা ভোটার সিদ্দিকুর রহমানের ফোন নাম্বারে কল দেয়া হলে ঢাকা থেকে আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তিনি মেসার্স আল্লাহ রাসুল (র.) পরিবহন অথবা মো. সিদ্দিকুর রহমান নামে কাউকে চিনেনা।

সম্ভাব্য পরিচালক প্রার্থী জহিরুল কবির চৌধুরী (শিরু) বলেন, ভোটারদের ফোন করলে অনেকেই লক্ষিপুর, ফরিদপুর, নোয়াখালী ও ঢাকার লোকজন ফোন রিসিভ করেন। অনেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চিনেনও না। এমতা অবস্থায় আমরা প্রচারণা করতেও হিমশিম খাচ্ছি। অচিরেই এসব ভূয়া ভোটারদের চিহিৃত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

সম্ভাব্য পরিচালক প্রার্থী দেবাংশু দাস মিঠু বলেন, প্রায় ২৬০০ ভোটারের মধ্যে অনেক ভোটারেরই কোন ঠিক ঠিকানা নেই। ফোন নাম্বারে কল দিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে পাওয়া যায়না। এমনকি অনেক নাম্বার অন্য ব্যক্তি রিসিভ করেন। আমাদের দাবী হচ্ছে পুরো ভোটার তালিকা যাচাই বাঁচাই করে ভূয়া ভোটারদের বাদ দিবে।

সম্ভাব্য পরিচালক প্রার্থী শান্ত দেব বলেন, চেম্বার সচেতন ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের অনেক ভোটারই অস্থিত্বহীন, যা মোটেও কাম্য নয়। অভিলম্বে ভূয়া ভোটার বাদ না দিলে নির্বাচন প্রশ্নবৃদ্ধ হবে। তাই সুস্থ নির্বাচনের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে তদন্তপূর্বক এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

বিষয়নি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল এর দায় নিতে চাননি। তার মতে, ভোটার তালিকা ঠিকই আছে। মোবাইল নাম্বার হয়তো ভুল হয়েছে। এখন ভোটারদেরকে এসে নিজেই নিজেদের মোবাইল নাম্বার ঠিক করতে হবে।

দুই একটি হয়তো ভুল হতে পারে, কিন্তু এত পরিমান ভোটারের মোবাইল নাম্বার কিভাবে ভুল হলো এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সুদুত্তর দিতে পারেন নি।

উল্লেখ্য, এর আগে সিলেট চেম্বারের ৬ জন বর্তমান পরিচালক এনিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

শেয়ার করুন