২৭ অক্টোবর ২০২১
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রতি বছরই শীত মৌসুমে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখিদের মেলা বসে । শীতের সমত অতিথি পাখিরা দূর দুরান্ত থেকে এসে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন হাওর এ সময় কলতানে মুখরিত করে তুলে। তবে এবার পাখি এসেছে তুলনামূলক কম। পাখি কম আসলেও থেমে নেই শিকারিরা। হাওরে পাখি শিকার চলছেই। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের কারেন্ট জাল ও ফাঁদ দিয়ে পাখি শিকার করা হচ্ছে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অতিথি পাখির কারণেই টাঙ্গুয়ার হাওর তথা সুনামগঞ্জের নাম সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে। এ কারণে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইউনেসকো টাঙ্গুয়ার হাওরকে ১ হাজার ৩১ তম রামসার সাইট ঘোষণা করেছে। বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃত এই হাওরের পরিযায়ী পাখিসহ বন্যপ্রাণী এখন হুমকিতে পড়েছে। যেখানে প্রতি বছর শীতে লক্ষাধিক অতিথি পাখি আসত সেখানে গত বছর মাত্র ২৫ হাজার অতিথি পাখি এসেছে। এই পাখি আসা ২০ হাজারের নিচে নেমে গেলে ইউনেসকো টাঙ্গুয়ার নাম কেটে দেবে। পাখি নিধন বন্ধ ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে না পারলে টাঙ্গুয়ার নাম বিশ্ব ঐতিহ্য থেকে মুছে যাবে।
অসাধু পাখি শিকারিদের বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ বছর কোনোভাবেই অসাধু পাখি শিকারিদের ছাড় দেওয়া হবে না। টাঙ্গুয়ার হাওরের শুধু পাখিই না কোনো কিছুই যাতে অসাধু চক্রের হাতে না পারে সে জন্য প্রশাসন কঠোর ভূমিকা রাখবে।
একাধিক সূত্রে আরো জানা যায়, প্রায় ১০হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে ১হাজার ৮শত ৫৫প্রজাতির পাখিই পরিযায়ী। টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখির অবস্থান ছিল। এর মধ্যে ৯৮প্রজাতির পরাযায়ী, ১২১প্রজাতির দেশি ও ২২ প্রজাতির হাঁসজাত পাখি বিচরণ করত। ২০১১সালে এ হাওরে পাখি শুমারীতে বিভিন্ন বিলে প্রায় ৬৪হাজার পাখির উপস্থিতি পাওয়া যায়। এতে ৮৬জাতের দেশি ও ৮৩জাতের বিদেশি রয়েছে।
হাওর পাড়ের বাসিন্ধাদের অভিযোগ, হাওরে রাতের আঁধারে এক শ্রেণীর অসাধু পাখি শিকারী ও পাখি ব্যবসায়ীদের কারনে পাখি আসা কমে গেছে। এছাড়া হাওরের জলাবন, হিজল কড়চ, নলখাগড়া বিলুপ্তি, ইঞ্জিন চালিত মেশিনের শব্দের কারণেও পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা সাদেক আলী বলেন, আগে শীতমৌসুমে বাড়িতে রাতে ঘুমানোর আগে আকাশে পাখিদের উড়ার শব্দ যেতো। কিন্তু এখন তা আর শোনা যায় না। এবার পাখি কম এসেছে।
হাওরে বেড়াতে আসা ফাহিম আহমদ জানান, এবার হাওরে পাখি নেই বললেই চলে। পাখির দেখা পাই নি। টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্যপ্রানী সংরক্ষন ও নিরাপত্তা আইন কার্যকর, জীববৈচিত্র রক্ষা ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য যোগপোযোগী কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে পর্যটকগণ মুখ ফিরিয়ে নিবে।