৪ অক্টোবর ২০২১
শাবি প্রতিনিধি : দীর্ঘ দেড় বছরের বেশী সময় বন্ধ থাকার পর চলতি মাসের মাঝামাঝি খুলছে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এ সপ্তাহে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় চূড়ান্ত হবে ক্লাস শুরুর দিন তারিখ।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি। তবে করোনা পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যবিধি ও টিকা গ্রহণের উপর গুরুত্ব দিলেও উচ্চশিক্ষায় বিদেশযাত্রী শিক্ষার্থীদের ভ্যাক্সিনেশন নিয়ে সংশয় কাটছে না সংশ্লিষ্টদের।
অপরদিকে দীর্ঘ দেড় বছর পর ক্যাম্পাস খোলার খবরে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস খুললে করোনাকালীন সকল ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা তাদের।
করোনা পরিস্থিতির শুরুরে গেল বছরের ২০ মার্চ থেকে পিনপতন নিরবতায় ছিল দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হলেও আশার আলো টেকেনি বেশিদিন। সরকারের নির্দেশনায় সেই পরীক্ষা গ্রহণ মাঝপথে থেমে যায়। তাই আর সরব হয়নি শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস।
এদিকে গেল ১ অক্টোবর থেকে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হলে যেন প্রাণ ফিরে পায় শাবি ক্যাম্পাস। তবে, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবরটি হলো, চলতি মাসের মাঝামাঝিতে খুলে দেয়া হচ্ছে শাবির দরজা। এমন বাস্তবতায় করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধির উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শাবি কর্তৃপক্ষ।
শাবিপ্রবি রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন জানান- এ সপ্তাহে শাবিপ্রবি একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং রয়েছে। এই মিটিং থেকে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত দিন তারিখ ঠিক করা হবে। তবে দুর্গাপূজা শেষ করে এ মাসের মাঝামাঝিতেই ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থবিধির ব্যাপারে তিনি বলেন- কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজকর্ম চালিয়েছে। ক্যাম্পাস খুললেও স্বাস্থ্যবিধির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চললেও বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুকদের ভ্যাক্সিনেশন নিয়ে সংশয় কাটছে না। বিষয়টি ভাবনায় শাবি প্রশাসন।
এ ব্যাপারে শাবিপ্রবির প্রক্টর ড. আলমগীর কবির জানান- ক্যাম্পাসকে শতভাগ ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে শাবি প্রশাসন। তবে শাবির যেসব শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক তাদের ভ্যাকসিনেশন নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে।
সংশয়ের কারণ হিসেবে তিনি জানান- দেশে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সিনো ফার্মার টিকা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সিনো ফার্মার টিকা অনুমোদন দিচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের জন্য এটা একটা বড় সমস্যা হতে পারে। তবে বিশ্বের সকল দেশে সমাদৃত ভ্যাকসিন নিয়ে আসার চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ; যাতে কোন শিক্ষার্থীকে বিদেশ যেতে সমস্যা না হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন পর খুলছে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস। তবে কারো অবহেলায় করোনা সংক্রমণে যেন ক্যাম্পাস আর নিস্তব্ধ না হয় সে বিষয়ে বাড়তি সতর্কতার তাগিদ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।