৪ অক্টোবর ২০২১
প্রবাস ডেস্ক : মানবপাচারের অভিযোগে ৪ সিলেটির জেল দন্ড দিয়েছে ফ্রান্সের একটি আদালত। গত মাসের ২০ সেপ্টেম্বর ৪ বছরের জেল সহ ফ্রান্সে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এ ৪ জনকে। ২০২০ সালে ২৫ ফ্রেবুয়ারী মানব পাচারসহ নানা অবৈধ কার্যকলাপের অপরাধে বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করেছে ফ্রান্সের পুলিশ। বিশেষ অভিযানে প্যারিসের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরা সকলেই বৃহত্তর সিলেটের বাসিন্দা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের শরীফ আহসান ওরফে দালাল শরীফ ও আব্দুল কদির জয়দু সহ ৫ জন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দালাল শরীফ দীর্ঘদিন থেকে ইউরোপে মানুষ পাঠানোর নামে মানবপাচারের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। ইউরোপ পাঠানোর নামে শত শত মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে সে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ট্যুর করছিলো। সন্দেহ হলে এ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে ফ্রান্সের পুলিশ। পরে প্যারিসের শার্লদুগুল এয়ারপোর্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। জানা গেছে এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ইউরো (টাকা) জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত অন্যরা তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান- ২/৩ মাসের মধ্যে ইউরোপ পাঠিয়ে দেয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে হাজার হাজার ইউরো হাতিয়ে নিয়েছে সে। কিন্তু এর মধ্যে বছর পেরিয়ে গেলেও অনেকই জায়গা মতো পৌঁছতে পারেন নি। বরং অনেককেই বিভিন্ন দেশে টাকা আদায়ের নামে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে জানা গেছে, দালাল শরীফ এর আগেও নানা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। বিএনপি জোট সরকারের আমলে সে শহরতলীর শিববাড়ী এলাকায় ডাকাতির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। এছাড়াও সে সময় চন্ডিপুলে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যও ছিল সে। এসব ঘটনায় সে একাধিকবার জেলও খাটে। মানবপাচার ও নানা অবৈধ কার্যকলাপের কারণে সে ইতিপূর্বে ইংল্যান্ডে ১৮ মাসের সাজা ভোগ করেছিল শরীফ আহসান ওরফে দালাল শরীফ। পরবর্তীতে একটি ভূয়া নামে একটি পাসপোর্টে বিদেশ যাতায়াত অব্যাহত রাখে শরীফ আহসান। সেই পাসপোর্টে তার নাম রেজাউল করিম চৌধুরী বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র। এদিকে প্যারিসে গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, দালাল শরীফের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে। বিশেষ করে মানুষ পাঠানোর নাম করে টাকা হাতিয়ে নেয়া অসংখ্য অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবো। এদিকে, ফ্রান্সের গ্রেফতারে পর তার বিরুদ্ধে মামলা গড়ায় আদালতে। আদালতে বিচার কার্য শেষে গত মাসের ২০ সেপ্টেম্বর শরিফ আহসান সহ তার ৪ সহযোগীর ৪ বছরের জেল দন্ড হয়। এছাড়া ১০ বছরের জন্য তাকে ফ্রান্সে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের একটি সূত্র। অপরদিকে, মানবপাচার বিশেষ ট্রাইবুন্যাল চট্রগ্রাম আদালতে শরীফ আহসান ওরফে শরীফ দালাল সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় শরিফ প্রধান আসামী। ( মামলা নং ২৫/২০)।