১ অক্টোবর ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট মহানগরজুড়ে অসংখ্য মৃত্যুকূপ! প্রতিমুহুর্তে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে নগরবাসীকে। ঘটছে দুর্ঘটনাও। কিন্তু তবু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। তাদের কোন দায়িত্ব আছে বলেও মনে হচ্ছেনা। এমন একটি মৃত্যুকূপে পড়ে বছরখানেক আগে কবি আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ আহত হয়েছিলেন। তারপর সপ্তাহ দু’য়েক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বিদায় নিয়েছেন চীরতরে। এ নিয়ে অনেক তোলপাড় হয়েছে। কিন্তু তারপরও বহাল তবিয়তে টিকে আছে আরও অসংখ্য মৃত্যুকূপ। সেগুলোতে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। তার খবরও প্রকাশিত হচ্ছে গণমাধ্যমে। কিন্তু কুম্ভকর্ণের নিদ্রা আর ভাঙছেনা। আর তাই সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী অনায়াসে প্রশ্ন করতে পারেন, মৃত্যুকূপগুলো কোথায়?
নগরীর খুব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জিন্দাবাজারের বারুতখানা। পয়েন্ট থেকে একটু সামনে এগুলেই হাতের বাঁয়ে সিলমার্ট কমপ্লেক্স। এই কমপ্লেক্সের পাশেই ড্রেনে ৩/৪ ফুটের মত উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন। প্রায় দু’সপ্তাহ আগে এই বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সিসিক’র নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেছিলেন, এটি ঠিক করা হবে। কিন্তু তা আর ঠিক হয়নি। সেই উন্মুক্ত অবস্থায়ই আছে।
এদিকে নগরীর ধোপাদীঘির দক্ষিণ পাড়ের সন্ধ্যা বাজার, পূর্ব দিকের ওসমানী শিশু উদ্যানের আশপাশ এলাকা, হাফিজ কমপ্লেক্স, নাইওরপুল এলাকায় এমন অসংখ্য মৃত্যুকূপ পড়ে আছে দিনের পর দিন। সিসিক কর্তৃপক্ষ এসবের খবর রাখেন বলেও কথাবার্তায় মনে হয়না। অথচ স্থানীয় কাউিিন্সলরদের মাধ্যমে বিষয়টি তাদের জানার কথা। আর নিজেদের কর্মী বাহিনীত আছেই।
সচেতন মহল বলছেন, উন্মুক্ত ড্রেন পড়ে থাকার অন্যতম কারণ সিসিক’র সংস্কার কাজ। তারা কাজ শেষে দিব্যি কিছুকিছু জায়গা এভাবে খোলামেলা ফেলে রেখে যান। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা তার কর্মীদের যথাযথ নজরদারি রাখা হয়না বলেই এগুলো পড়ে থাকে এবং নাগরিকদের জন্য দুর্ভোগের পাশাপাশি বিপদও ডেকে আনে।
তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলেন তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, কোথায় কোথায় এমন মৃত্যুকূপ? মানে এগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি জানেন না।
অথচ উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে দেখা বা মনিটর করা হলে কোথায় কোথায় কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে তা নূর আজিজসহ অন্যান্যদের জানা থাকার কথা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয়ার কথা!
এনিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত সচিত্র প্রতিবেদনও প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু ওসবে কর্তাদের নজর পড়বেই বা কেন- এমন প্রশ্নও সচেতন নাগরিকদের।
মাসখানেক আগে রাতের আঁধারে স্বামী আর রাজমিস্ত্রিদের নিয়ে গাঁটের টাবা খরচ করে এক নারী সমাজকর্মী চৌহাট্টা-রিকাবিবাজার রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলেন। প রদিন নূর আজিজ বলেছিলেন, অনেক বড় শিক্ষা দিলেন এই নারী।