১৫ আগস্ট ২০২১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অবশেষে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। সোমবার দেশটির রাজা সুলতান আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
রোববার দেশটির সংবাদ মাধ্যম মালয়েশিয়াকিনির করা এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খবরটি সত্যি হলে মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের ১৭ মাসের শাসনকালের সমাপ্তি ঘটবে।
দেশটির মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী রেদজুয়ান মোহাম্মদ ইউসুফ মালয়েশিয়াকিনিকে জানান, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। ইতোমধ্যে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ও নিজ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি রয়টার্স।
২০২০ সালে মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট দেওয়ান রাকাইয়েতের সদস্যদের ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। তবে নিজের পদ ধরে রাখতে সারাক্ষণ চাপে ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি সেই চাপ আরও বেড়ে যায় যখন তার দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অন্যতম শরিক ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনে (ইউএমএনও) যোগ দেয়।
করোনা মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতা, স্বেচ্ছাচারিতা, মহামারি পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সঠিক নির্দেশনা দিতে না পারাসহ অযৌক্তিকভাবে রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহকে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের বিরুদ্ধে।
জুলাইয়ের শেষে তার পদত্যাগের দাবিতে মালয়েশিয়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর গত ৪ আগস্ট এক টেলিভিশন ভাষণে পার্লামেন্টের সদস্যরা তাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত কিনা, তা যাচাইয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে দেওয়ান রাকাইয়াতে আস্থাভোট চান তিনি।
তবে গত শুক্রবার (১৩ আগস্ট) পার্লামেন্ট অধিবেশনে মুহিউদ্দিন ইয়াসিন প্রথমবারের মতো স্বীকার করে নেন, তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় আস্থাভোটে তাকে সমর্থন দেওয়া হলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে তার এ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
একদিকে করোনা মহামারির প্রকোপ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক মন্দা; এর মধ্যে মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের পদত্যাগ মালয়েশিয়াকে নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী সরকার কে গঠন করবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মহামারির মধ্যে নতুন নির্বাচন হবে আদৌ কিনা তা নির্ভর করবে রাজা আল সুলতান আবদুল্লাহর ওপর।