৩ আগস্ট ২০২১


সিলেটে তীব্র অক্সিজেন সংকট

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনার থাবায় বিপর্যস্ত সিলেট। একদিন মৃত্যুর সংখ্যা কমলে পরদিন আবার নতুন রেকর্ড হচ্ছে। ঠিক তেমনি সংক্রমনের লাগামও টানা যাচ্ছেনা। প্রায় একমাস লকডাউনে থাকার পরও এই অবস্থা। এদিকে সিলেটের হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের পাশাপাশি দিন দিন তীব্র হচ্ছে অক্সিজেন সংকট। আর এজন্য সচেতন নাগারিকবৃন্দসহ বিশেষজ্ঞরা সরাসরি আঙুল তুলছেন মন্ত্রনালয়ের দিকে। তাদের মতে, গত ১৬ মাসেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এ ব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগই গ্রহণ করতে পারেনি।

সিলেটের প্রায় এক কোটি মানুষ বরাবরই সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের হেলাফেলার শিকার। মহামারী করোনায় গোটা বিশ্ব লন্ডভন্ড, এসময়টাতেও তা অব্যাহত। প্রায় এক কোটি অধিবাসীর জন্য সরকারী হাসপতাল গুলোতে করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দ আইসিইউ বেডের সংখ্যা এতদিন পর্যন্ত ত্রিশটাতেই আটকে ছিল।

সোমবার থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ৮টি আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। এরপরও সাকুল্যে ৩৮।

এদিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে অক্সিজেন, প্রচুর সময় পাওয়ার পরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় বা অধিদফতর এ ব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগই গ্রহণ করেন নি। কয়েক মাস আগেও যখন প্রতিবেশি ভারতে অক্সিজেন সংকটে দৈনিক হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানীর চিত্র প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশ, তখনও নির্বিকার থেকেছে মন্ত্রনালয়। সিলেটে একটিও অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। এমনকি, বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এ ব্যাপারে এগিয়ে আনতে তেমন কোন প্রচেষ্টাই ছিলনা তাদের।

এখন যখন অক্সিজেনের জন্য ছুটাছুটি শুরু করেছেন সিলেটের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ, তখন সচেতন সিলেটবাসী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। তারা এ পরিস্থিতির জন্য কোন রাখ-ঢাক না করে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে দায়ী করছেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি কর্মী সুহেল মাহমুদ বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক। এত সময় পেয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সিলেটের জন্য তেমন একটা উদ্যোগী হয়নি। এখানকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে মাত্র ত্রিশ-চল্লিশটার মতো আইসিইউ বেড আছে। এটা ভাবা যায়? আর অক্সিজেন উৎপাদন? কি উদ্যোগ নিয়েছেন তারা?

প্রায় একই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন সিলেটে করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়ীত বেসরকারি হাসপাতাল নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মো. সৈজ্জাদুর রহমান।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আজ সিলেটে অক্সিজেনের যে সংকট তৈরি হয়েছে তার জন্য দায়ী সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়। তারা প্রচুর সময় পেয়েছেন। কিন্তু সিলেট অঞ্চলের এক কোটি মানুষের জন্য কিছুই করেন নি। এমনকি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এ ব্যাপারে তারা উদ্যোগী করতে পারেন নি। আর তাই এখন সিলেটবাসী জীবনের ঝুঁকিতে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট আছে। সেখান থেকে উৎপাদিত অক্সিজেনে এতদিন আমাদের ভালোই চলছিল। এখন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাহিদাও বেড়েছে। তাই আমরা আরেকটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শুরু করেছি।

এদিকে জানা গেছে, সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালসহ অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ করছে লিন্ডা ও স্পেক্ট্রা নামক দুটি সংস্থা। ভারত থেকে আমদানিকৃত অক্সিজেনের গাড়িগুলো আসছে বেনাপোল হয়ে। এত দুর আসতে প্রচুর সময় লাগছে। লকডাউন উঠে গেলে রাস্তায় যানজট বাড়বে। তখন আরও বেশি সময় লাগবে। তখন সংকট আরও ঘনিভূত হবে। আর তাহলে পরিস্থিতি যে আরও ভয়ঙ্কর হবে- বিষয়টি ভেবে এখনই শঙ্কিত সচেতন মহল।

তাদের মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন সিলেট অঞ্চলের কয়েকজন মন্ত্রী। কিন্তু তবু গেল ১৬ মাসেও তারা আইসিইউ শয্যা বৃদ্ধি ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের ব্যাপার উদ্যোগী হননি। সিলেটবাসীর জন্য তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের। এ ব্যাপারে দ্রুত সরকারি উদ্যোগের প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

শেয়ার করুন