৩০ জুলাই ২০২১
আয়তন বৃদ্ধি চূড়ান্ত হয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রশাসনিক পুনর্বাসন সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে অনুমোদিত হয়। এর ফলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ২৬ দশমিক পাঁচ বর্গ কিলোমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটারে বিস্তৃত হলো। এখন নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকাসমূহকে ওয়ার্ডে বিন্যাস করে গ্যাজেট প্রকাশ করা হবে। আর তখন থেকেই শুরু হবে বর্ধিত এলাকার নানা ধরণের উন্নয়ন কার্যক্রম। সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় বর্ধিত এলাকার বাসিন্দাসহ সর্বমহলে আনন্দের জোয়ার বইছে। প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সবাই। খবরটি প্রকাশিত হয় এই পত্রিকায়।
মাত্র ২৬ দশমিক পাঁচ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সিলেট পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয় ২০০২ সালে। কিন্তু আয়তন যা ছিলো তা-ই রয়ে গেছে। অর্থাৎ তখন দেশের ক্ষুদ্রতম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। তখন থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বাড়ানোর দাবী উত্থাপিত হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আয়তন বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এর ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন। আয়তন বর্ধিত করার পরও সিলেট সিটি কর্পোরেশন দেশের অন্যতম ক্ষুদ্র সিটি কর্পোরেশন বলেই বিবেচিত হবে। এখানে উল্লেখ করা জরুরী যে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আয়তন একশ’ ৮০ বর্গ কিলোমিটার বৃদ্ধির জন্য ইতোপূর্বে প্রস্তাব দিয়েছিলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্রতম সিটি কর্পোরেশন হওয়ায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জন্য বরাদ্দ কম। পক্ষান্তরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আয়তন তিনশ বর্গ কিলোমিটার। যা সিলেটের তুলনায় ১১ গুণ বেশী। এই প্রেক্ষিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বাড়ানোর বিষয়টি অপরিহার্য্য হয়ে পড়ে। এখন আয়তন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে।
হজরত শাহজালাল (রহঃ) এর স্মৃতিধন্য সিলেট শহর ১৮৭৮ সাল পৌরসভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তখনকার ক্ষুদ্র একটি শহর আজ একটি মহানগর। এখন এর আয়তন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির পর সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে নগরবাসীর দায়িত্বও। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাটসহ ড্রেন, ফুটপাত পুননির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে রয়েছে অলিগলিসহ বিস্তির্ণ এলাকা; যেখানে রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল, পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা করুণ। তাছাড়া নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকার কথা তো বলাই বাহুল্য। পুরনো এলাকার চেয়ে একটু বেশী সমস্যা বিরাজ করছে সম্প্রসারিত নতুন এলাকায়। এক্ষেত্রে আপাতদৃষ্টে দ্বিগুণ আয়তনের নগরীতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ রীতিমতো একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই ধরে নিতে হবে। তবে বর্তমান কর্তৃপক্ষ সেই চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবেই মোকাবেলা করতে পারবে বলেই আমরা আশাবাদ