১৪ জুলাই ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : চলছে মহামারী করোনাকাল। বন্ধ প্রায় সবকিছু। সিলেটসহ সারাদেশের আদালতও বন্ধ। এতে দিনে দিনে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছেই। নাগরিক অধিকারও খর্ব হচ্ছে বলে মনে করছেন আইনজীবীসহ সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভার্চুয়ালি আদালতের কার্যক্রম সচল থাকলে অনেক নাগরিকই হয়ত কিছুটা হলেও স্বস্তিতে জীবন যাপন করতে পারতেন।
সিলেটসহ সারাদেশে করোনা দিনে দিনে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। সংক্রমন একটু কমলেই পরদিন আবার বাড়ছে। এ অবস্থায় চলছে অনেক দিন ধরে। করোনাকালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কমপক্ষে ৩ বার লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এখন চলছে তৃতীয় দফা লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহ।
এ অবস্থায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ দীর্ঘদিন থেকে। এতে নাগরিক অধিকার খর্ব হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের যুক্তি, আদালতের কার্যক্রম সচল থাকলে হয়ত একজন আসামী জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরতে পারতেন। বা বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে একজন আসামী ও তার পরিবারের সদস্যরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকতে পারতেন। কিন্তু আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেই সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত।
এছাড়াও আইনজীবীদেরও পড়তে হচ্ছে আর্থিক সংকটে। আদালত সচল থাকলে তাদের আয়-রোজগার হতো। বিশেষ করে আইনজীবী সহকারীদের অবস্থা আরও খারাপ।
এ অবস্থায় সিলেটের অনেক আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বিচার প্রার্থী থেকে শুরু করে সচেতন প্রায় প্রতিটি মানুষই চাইছেন, অন্তত স্বাস্থ্য ও দূরত্ববিধি মেনে অন্তত ভার্চুয়ালি আদালতের কার্যক্রম সচল থাকুক।
আদালত কবে সচল হবে- বিচার প্রার্থী ও তাদের অভিভাবকের এমন প্রশ্নের মুখে প্রায় প্রতিদিনই পড়তে হচ্ছে আইনজীবী ও গণমাধ্যম কর্মীদের।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ বলেন, আদালতের কার্যক্রম সচল না থাকার কারণে মানুষের নাগরিক অধিকার খর্ব হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অন্তত ভার্চুয়ালি কার্যক্রম চালাতে পারলে অন্তত কিছু মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারতেন। উচ্চ আদালত এমন সিদ্ধান্ত নিলে আমরা আইনজীবীরা প্রস্তুত। লকডাউন শিথিল হবে কয়েকদিনের জন্য। ঈদের পর আবারও কঠোর লকডাউনে যাবে দেশ- এমনটাই শুনছি। তার মানে বিচার প্রার্থীদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা থেকেই যাবে। আমরা এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।