৮ জুলাই ২০২১
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৫০টি ঘরে উদ্বোধনের পাঁচ মাসেও পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সারাদেশের মতো (প্রথম পর্যায়ে) বড়লেখায় ভূমি ও গৃহহীনদের জমি ও ঘরগুলো দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা না থাকায় এখনো ৩৪টি পরিবার ঘরগুলোতে উঠেনি। আর যারা উঠেছেন তারা পানি ও বিদ্যুতের জন্য কষ্ট করছেন।
ঘরগুলোর বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শীগ্রই ঘরগুলোতে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ (‘ক’ শ্রেণি) পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় বড়লেখা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৫০টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বড়লেখা সদর ইউনিয়নে ১০টি, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে ১৬টি, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে ৩টি, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নে ৩টি এবং দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নে ১৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়। একেকটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি উপকারভোগীদের মধ্যে ঘরগুলোর চাবি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু মাত্র ১৬টি পরিবার ঘরে উঠেছে। পানি আর বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় বাকি ৩৪ পরিবার ঘলগুলোতে এখনো উঠেনি।
সরেজমিন বড়লেখা সদর ইউনিয়নের সাতকরাকান্দি গ্রামে গিয়ে কথা হয় উপকারভোগী রফিক উদ্দিনের সাথে। সম্প্রতি স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ঘরে উঠেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘর দিয়েছেন। এজন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু ঘরে বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই। পানিরও কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাদের কষ্ট করে অন্যের বাড়ি থেকে পানি এনে খেতে হচ্ছে। খুব কষ্টে আছি। বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও বিদ্যুৎ দেওয়া হয়নি।
রফিক উদ্দিনের মতো এখানে ঘর পেয়েছেন মাতাব উদ্দিনও। তিনি ঘরে স্ত্রী নিয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, দশটি ঘরের মধ্যে তিনটি ঘরে আমরা তিন পরিবার উঠেছি। কিন্তু ঘরগুলো বিদ্যুৎও নেই। এখানে খাবারের পানির ব্যবস্থা (উৎস) নেই। আমাদের এলাকার বিভিন্ন বাড়ি থেকে পানি এনে পান করতে হচ্ছে। পানি আর বিদ্যুৎ না থাকায় বাকি পরিবার গুলো এখনও ঘরে উঠেনি। আমরা বিদ্যুতের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু পাইনি।
উপজেলার কাশেমনগর গ্রামে গিয়ে কথা হয় মনি বেগম, নাজমা বেগম ও ছলিম উদ্দিনের সঙ্গে।
তারা বলেন, ‘এখানে ১৫টি ঘর আছে। এরমধ্যে আমরা সাত পরিবার ঘরে উঠেছি। বাকি পরিবারগুলোও উঠেনি। কারণ এখানে পানি নেই। বিদ্যুৎ নেই। আমরা পানি অন্যদের বাড়ি থেকে কষ্ট করে এনে পান করছি। পানি আর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিলে আমাদের ভোগান্তি কমবে।’
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক এমাজ উদ্দিন সরদার বলেন, ‘৫০ ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ইউএনও’র কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যানদের ঘরগুলোতে ওয়্যারিং কাজ করানোর কথা। কিন্তু ওয়্যারিং কাজ না করায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যায়নি। তবে বুধবার পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ড থেকে আমাদের কাছে পত্র এসেছে। ঘরগুলোতে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ নিজ খরছে ওয়্যারিংসহ যাবতীয় কাজ করে দেবে। যেসকল ঘর মেইন লাইন থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে আছে, সেগুলোতে দ্রæত সংযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া এর বাইরে ঘরগুলোতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুরসরণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।’
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারি প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলোতে পানির উৎস (গভীর নলকূপ) স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে উত্তর শাহবাজরপুর ইউনিয়নের ভোগা-চাঁনপুরে নির্মিত ঘরগুলোতে গভীর নলকূপ স্থাপন কার্যক্রম চলছে। মূলত বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় নলকূপ স্থাপন কার্যক্রমে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। একারণে কিছুটা দেরি হয়েছে। আশাকরি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নলকূপ স্থাপন করে উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।’
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। যোগদানের পর প্রথম মাসিক সমন্বয় সভায় ঘরগুলোতে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে দ্রæত বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে ডিজিএমকে চিঠিও দিয়েছি। ডিজিএম জানিয়েছেন, দুই একদিনের মধ্যে ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শুরু হবে। ১৫ থেকে ২১ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শেষ হবে। এছাড়া ঘরগুলোতে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রæত তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। তা সফলভাবে বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’