৬ জুন ২০২১


প্লাস্টিকের আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে বাশ-বেত শিল্প

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : দোচালা একটা মাঠির ঘর। দাওয়ায় বসে বাশের খন্ড খন্ড অংশ আলাদা করছেন পঞ্চশর্ধ্বো দয়াময় বিশ্বাস। তার পাশে বসেই টুকরি তৈরি করছেন উনার স্ত্রী বিশ্বাস। উঠোনে ছেলে তৈরি করা চাইগুলো বাজারে নেওয়ার জন্য বাধছেন।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার বাছিরপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশেই এই গ্রাম। যার নাম চুলারকুড়ি। প্রথমবার এ গ্রামে ঢুকেই অবাক হয়ে পড়বেন যে কেউই। গ্রামের গুটিকয়েক পরিবার বাদে ছেলে-বুড়ো থেকে শুরু করে কিশোরী-গৃহিণীরা সবাই ব্যস্ত বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন সাংসারিক সরঞ্জাম ও তৈজসপত্র তৈরিতে।

তবে খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেলো আরো চমকপ্রদ তথ্য। একসময় এই গ্রামের বাঁশ-বেত তৈরির কাজ ছিল আরো ব্যাপকহারে। জড়িত ছিলেন আরো বেশি মানুষ। কালের আবর্তে, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা আর কাঁচামালের দুঃষ্প্রাপ্যতা আর প্রযুক্তির উৎকর্ষে কিছুটা থেমে গেছে এ শিল্পের গতি। কমে গেছে এ পেশায় থাকা মানুষের সংখ্যাও।

চুলারকুড়ি গ্রামে ঘুরে জানো গেলো, গ্রামের শতাধিক পরিবার সবাই কমবেশি বাঁশ-বেতের পণ্য তৈরির সঙ্গে জড়িত।

কথা হয় গ্রামের একজন শিক্ষিত তরুন বেনু লাল বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানান, গ্রামের কমবেশি সবাই এ কাজ করেন। কিন্তু ইদানীংকালে বেশিরভাগ মানুষ এই পেশা থেকে সরে আসতে চাইছে। তবে বাপ-দাদার এ কাজে তেমন আয় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাঁশের পণ্য তৈরিতে কাঁচামাল সংকটের কারণেও অনেকে এ কাজে আগ্রহ দেখান না। তবে বেশিরভাগই প্রয়োজনে ও অবসর সময়ে এ কাজ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাসেরবাজার, চুলারকুড়ি, পানিশাইল ওহির কুঞ্জি, মাইজমজুরি, মালিশ্রী, তালিমপুর ইউনিয়নের পাবিজুরি, খুটাউরাসহ উপজেলার আখালিমুড়া, ফকুয়া, বচনপুর,ভরাউট, সোনাতুলা, শিমুলিয়া, তেরাঘুড়ি, বাড্ডা এলাকার অধিকাংশ গ্রামের পরিবার এই শিল্পের সাথে জড়িত। তবে এখন বেশিরভাগ শিল্পীর এ কাজের প্রতি অনীহা দেখা দিয়েছে।

বাশবেত শিল্পের অন্যতম উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে কুকা,ডাম, হুড়া, টুকরি, ডরি, রুঙা, পলো, ঝাড়ি, ধুচইন। গ্রাম বাংলার মানুষের সাংসারিক কাজের বেশিরভাগ জিনিসই এই শিল্পের মাধ্যমে চাহিদা মিটিয়ে আসছে। সেই সাথে মাছ শিকারে যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হয় তার অনেকটাই বানানো হয় এই বাশবেত শিল্পের মাধ্যমে।

গ্রামে গ্রামে ঘুরে এসব জিনিস সংগ্রহ করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, প্লাস্টিকের জিনিস আইয়া আমরারে মারিলাইছে, যারার কাছ থাকি কিনি তারাও লাভ পায় না আমরা পাই না। কুনোমতে সংসার লইয়া আছি।

শেয়ার করুন