৮ জুলাই ২০১৭


ওসমানীনগরে অপ্রতুল ত্রান, বিপাকে জনপ্রতিনিধিরা

শেয়ার করুন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি : ওসমানীনগরে অপ্রতুল ত্রান নিয়ে বিপাকে রযেছেন জনপ্রতিনিধিরা। হাজার হাজার পানিবন্দি মানুষের জন্য যে পরিমান ত্রানের প্রয়োজন তার যতসামান্যই পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে বন্যার্ত মানুষরা যেমন মানবেতর জীবর যাপন করছেন ঠিক তেমনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতিও ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় উপজেলার ৮ ইউনিয়নের অন্তত ৫ হাজার পরিবার ৩ সপ্তাহ ধরে পানিবন্ধি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করলেও সরকারি ভাবে দুই দফায় মাত্র ৬ মেট্রিক গম, ৮ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল। যার কারণে দূর্গতদের অধিকাংশই ত্রাণ বঞ্চিত থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ওসমানীনগরের বন্যার্ত পরিবারের জন্য নতুন করে ২৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩০ হাজার টাকার বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার।

চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ত্রাণ বিতরণকালে জনপ্রতিনিধিরাও পড়ছেন বিপাকে। নতুন করে বরাদ্ধ পাওয়ায় জনপ্রতিনিধিরাও স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলছেন। গত বুধবার বিকেলে সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার সরেজমিনে গিয়ে পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের ভল্লবপুর গ্রাম পরিদর্শন করেন।

এসময় তিনি বন্যা কবলিত কিছু পরিবারের মধ্যে নগদ টাকা, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও হাইজেনিক কীট বিতরণ করেন। তার সাথে ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার সিলেটের উপ-পরিচালক দেবজিৎ সিনহা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান প্রমূখ।

জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, বন্যার্তদের জন্য সরকার পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ বরাদ্ধ দিয়েছেন যাতে কোন মানুষ না খেয়ে থাকে না। ২৪টন চাল ও নগদ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে প্রয়োজনে আরো দেয়া হবে।

জানা যায়, প্রথম ধাপে চৈত্র মাসের অনাকাংখিত বন্যায় এলাকার অধিকাংশ বুরো ধান পানিতে তলিয়ে গেলে ক্ষতি গ্রস্থ হন কয়েক সহস্রাধিক কৃষক। সেময় কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। জুন মাসের ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাওয়া মাত্রই ভেঙ্গে যায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কুশিয়ার ডাইক। যার প্রেক্ষিতে দ্রুত বন্যা কবলিথ হতে থাকে গ্রামের পর গ্রাম। তাৎক্ষণিক বাঁধটি সংস্কার করা হলেও ভারিবর্ষণ অব্যাহত থাকায় আবারও ভেঙে যায় ডাইকটি।

ভারি বর্ষণ ও ডাইক ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে উপজেলা ৮ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের বসত বাড়ি, রাস্তা ঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। বর্তমানে এলাকার প্রায় ৫হাজার পরিবার পানিবন্ধি অবস্থায় রয়েছে। এলাকার জলপ্রবাহের মাধ্যম গুলো দখল আর খননের অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ায় আশানুরূপ ভাবে বন্যার পানি নামতে পারছে না। এতে বন্যা দূর্গত পরিবারের দূর্ভোগের চিত্র আরো কঠিন আকার ধারণ করছে।

গোয়ালাবাজার ইউপির নূরপুর গ্রামের পানিবন্দি ছুরুক মিয়া বলেন। অনেক দিন ধরে কাজকর্ম নেই বলে ঘরে খাবারও নেই। বউ বাচ্ছা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে আছি।

 

 

(আজকের সিলেট/৮ জুলাই/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন