১৯ মে ২০২১
অতিথি প্রতিবেদক : করোনার সংক্রমণ রোধে দেশে চলছে লকডাউন। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে আন্তঃজেলা বাস চালু হলেও বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস। তবুও ৩ থেকে ৪ গুণ বেশী ভাড়া দিয়ে কয়েক দফা গাড়ী বদল করে ঈদে বাড়ী ফিরেছে মানুষ। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ফের গন্তব্যে ছুটছে তারা।
ফিরতি পথেও ঘটছে বিপত্তি। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ভরসা মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, নোহা ও হাইএক্স। এসব যানবাহনে তিনগুণ ভাড়ায় ঢাকা ফিরছে মানুষ। ভাড়া বেশী নিলেও মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি। ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি করোনাঝুঁকিতে রয়েছেন ঢাকামূখী হাজার হাজার মানুষ। তবে চালকদের দাবী সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে বিভিন্ন চেকপোষ্টে পুলিশ টাকা দিতে হয়। এছাড়াও যে জায়গা থেকে যাত্রী উঠানো হয় সেসব জায়গার স্থানীয় নেতাদেরকে যাত্রী প্রতি হিসেব করে টাকা দিতে হয়। এতে করে চালকের বদনাম হলেও চালক তার ন্যায্য ভাড়ার বেশী পাচ্ছেনা।
নগরীর হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর, কদমতলী টার্মিনাল সহ দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন পয়েন্টে ঢাকামূখী যাত্রী সংগ্রহ করছে মাইক্রোবাস ও কার। জনপ্রতি নেয়া ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০ পর্যন্ত। অর্ধেক যাত্রী বহনের কথা থাকলেও গাড়ীতে তোলা হচ্ছে আসনের অধিক যাত্রী। অনেকটা গাদাগাদি করে কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন তারা। পরিবহন শ্রমিকদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হলেও অসহায় যাত্রী সাধারণ। কারণ এসব দেখার কেউ নেই। গাড়ীতে অর্ধেক যাত্রী বহন করা হলেও পুলিশ কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চোখে পড়েনি কোথাও। ফলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব মাইক্রোবাস চালক।
মঙ্গলবার দেখা যায়, হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর থেকে ঢাকার যাত্রী ডাকছেন জনৈক হাইএক্স চালক। কতজন যাত্রী তুলছেন আর ভাড়া কত নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে চাননি ঐ চালক। শুধু বললেন আমরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলতেছি। প্রশাসনকে কিভাবে ম্যানেজ করছেন এমন প্রশ্নের উত্তর মিলেনি তার কাছে। গাড়ীতে বসা ঢাকামূখী যাত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ১৪০০ টাকায় ঢাকায় যাচ্ছেন তিনি। আর নামবেন গাজীপুর।
একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকুরী করা ঐ যাত্রী বলেন, আসার সময় ১২০০ টাকায় সিলেট আসি। এখন ফিরছি ১৫০০ টাকায়। হাইএক্স গাড়ীতে ১০ আসনের বিপরীতে ৫ জন যাত্রী বহনের কথা থাকলেও ১২ জন যাত্রী তুলবে বলে জানিয়েছে চালক। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ঢাকা ফিরতে হচ্ছে। ঢাকা ফেরার এই বেহাল অবস্থা শুধু ঐ হাইএক্স চালক কিংবা যাত্রীর নয়। এটা চলমান লকাউনের নিত্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর, কদমতলী টার্মিনাল ও চন্ডিপুল সহ বিভিন্ন স্থানে মাইক্রোবাস, হাইএক্স ও প্রাইভেট কার যাত্রী উঠানামা করছে। যেসব স্থানে যাত্রী তোলা হচ্ছে সেসব স্থানে এলাকার ক্ষমতাসীন দলের ছেলেদের টাকা দিতে হয়। তারপর তারা যাত্রী তুলে দেয়। গাড়ী রওয়ানা হওয়ার পর থেকে প্রতিটি চেকপোষ্টে পুলিশকে দিতে হয় টাকা। ফলে ঢাকা পৌছে চালকের মূলভাড়া ছাড়া অতিরিক্ত তেমন কোন টাকা থাকেনা।
সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিম বলেন, দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট পরিবহনের সাথে জড়িত শ্রমিকগণ বেকার রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে ঢাকামুখী যাত্রী সরবরাহ করছে। এই কঠিন সময়ে তারা কিছু রোজগার করতেই ছোট গাড়ী চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ন্যায্য ভাড়া আদায়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবুও পরিপার্শিক অবস্থার কারণে ঢাকা যেতে চালককে বিভিন্ন পয়েন্টে টাকা দিতে হয়। তাই তারা হয়তো অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করছে। এ থেকে মুক্তি পেতে সরকারের উচিত দূরপাল্লার বাস চালু করা। এতে জনগণের টাকাও সাশ্রয় হবে। পরিবহন শ্রমিকগণও অতিরিক্ত ভাড়া বহন থেকে বিরত থাকবে। পথে পথে উৎকোচ আদায়ও বন্ধ হবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ডিসি ফয়সাল মাহমুদ বলেন, আমাদের ট্রাফিক বিভাগ দূরপাল্লার বাস চলাচল করলে তা ফিরিয়ে দিতে কাজ করছে। জনবল সংকটের কারণে ঢাকামূখী মাইক্রোবাস, হাইএক্স ও প্রাইভেট কারের ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছিনা। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ মুভমেন্ট পাস চেক করে থাকে। এসব গাড়ী থেকে চেকপোষ্টে উৎকোচ গ্রহণের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, যাত্রাপথে অযথা হয়রানী করে যদি কোন পুলিশ সদস্য উৎকোচ গ্রহণ করে থাকে এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ঘুষ-দুর্ণীতির ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে বহাল আছি।