১৮ মে ২০২১


পপুলারের ভুল রিপোর্ট, নবজাতক নিয়ে বিভ্রান্তিতে পরিবার

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে মায়ের গর্ভে দুইটি সন্তানের অস্তিত্ব রয়েছে, সে অনুযায়ী অপারেশনের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন চিকিৎসক। রক্ত সংগ্রহ থেকে নিয়ে সবকিছু দুটি সন্তান গ্রহণের জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন স্বজনরা। তবে অপারেশনের পর জানা গেল দুজন নয়, মায়ের গর্ভে মূলত রয়েছে একটি সন্তান। এরপর শুরু হয় রোগীর স্বজন ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি।

সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকার আল রাইয়্যান হাসপাতালে এমন ঘটনাই ঘটেছে। তবে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টটি ছিলো-সিলেট নগরীর কাজলশাহের পপুলার মেডিকেল সেন্টার লিমিটেডের। এ নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছে ঝরণা বেগম নামের ঐ প্রসূতি মায়ের পরিবার। তার বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাও ইউনিয়নের মীরেরগাওয়ে। তিনি সৌদি প্রবাসী সদর উদ্দিনের স্ত্রী।

ঝরনা বেগমের প্রবাসী স্বামী সদর উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা হওয়ার পর থেকে একাধিকবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। ঝরনার গর্ভে একজন সন্তান রয়েছে বলে এতে সনাক্ত হয়। সোমবার সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সকাল ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য কাগজে লিখে দিলে ঝরনা বেগমের স্বজনরা নগরীর কাজলশাহের পপুলার মেডিকেল সেন্টারে তাকে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে দুপুর ১২টায় একটি আল্ট্রাসনোগ্রা রিপোর্ট ডেলিভারী দিলে তাতে মায়ের পেটে ২ জন সন্তান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন স্বজনরা। এরপর ঝরনা বেগমকে ওসমানীতে না নিয়ে দ্রুত পার্শ্ববর্তী আল রাইয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে ওসমানী হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডাঃ ফাহমিনা আক্তার ফাহমিকে কল করা হলে তিনি এসে অপারেশনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু, অপারেশনের পর দেখা যায় সন্তান দুটি নয়, একটি। এসময় আমরা আরো একটি সন্তান কোথায় জানতে চাইলে চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পপুলারের দেয়া রিপোর্টটি ভুল।

ওসমানী হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডাঃ ফাহমিনা আক্তার ফাহমি বলেন, রোগীর সাথে আগের এবং সর্বশেষ তিনটি আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ছিলো। আমরা সর্বশেষ রিপোর্ট দেখেই প্রস্তুতি নেই। তবে বাস্তবে ঝরনা বেগমের গর্ভে একটি কন্যা সন্তানই পাই। আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টটি ভুল হতে পারে। তবে আমরা একটি সন্তানই পেয়েছি। এর বাইরে কিছুই জানি না।

ভোক্তভোগী সদর উদ্দিন অভিযোগ করেন, পপুলারের একটি ভুল রিপোর্টের জন্য আমরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছিলাম। আমরা চাই আর যেন কেউ এমন পরিস্থিতিতে না পড়ে। আমরা এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করবো। আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে পপুলারের ডাঃ নিরুপমা দাশ নামন নামের জনৈক চিকিসকের স্বাক্ষর রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পপুলার মেডিক্যাল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শায়েক আজিজ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার সহকারী ফোন রিসিভ করে বিভিন্ন অযুহাতে লাইন কেটে দেন।

শেয়ার করুন