৭ মে ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : সংক্রমণ ব্যাধি মহামারি করোনার কাছে জিম্মি পৃথিবী। এই মহামারি থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে এখনও চলছে গবেষণা। সাথে আবিস্কৃত হয়ে প্রতিষেধক টিকা। তবুও কমছেনা আতঙ্ক। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন-একমাত্র জনসমাগম এড়িয়ে থাকা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা থাকাই নিজেকে বাঁচানোর অবলম্বন।ফলে জনসমাগম কমাতে সরকারি নির্দেশনায় চলছে লকডাউন। লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধিসহ সরকারি নির্দেশনাও দেওয়া রয়েছে। তবে, নির্দেশনার কিছুই আমলে নিচ্ছেন না অধিকাংশ মানুষ। এর ফলে বেড়ে গেছে যানজটও।
নগরীর কয়েকটি শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে এমন চিত্রই লক্ষ করা গেছে। ইতিমধ্যে বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও শর্তসাপেক্ষে মহানগর এলাকায় চলছে গণপরিবহণ। এর ফলে নগরমুখী মানুষের সংখ্যা ফিরে এসেছে আগের মতোই। দিনে অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও ইফতারের পর ক্রেতাদের ঢল নামে নগরীর সকল বিপনি বিতানে। এতে করে বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটলেও শঙ্কা জাগাচ্ছে করোনার প্রকোপ। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই, ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে থাকছে না মাস্ক। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অপরদিকে, সারাদেশে গত কয়েকদিন ধরে করোনার প্রকোপ ও মৃত্যুর হার কমলেও এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে সিলেট বিভাগে। গত শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত ৬ দিনে সিলেট বিভাগে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬২ জন। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছেন গড়ে ৬০ এর অধিক মানুষ।
আর মাত্র ক’দিন পরেই সিলেটসহ সারাদেশে উদযাপিত হবে মুসলিম উম্মাহের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে নিতে বিপনি বিতানে পা রাখছেন সকল বয়সের মানুষ। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়ায় প্রতিদিন বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। সকল শপিংমল ও ব্র্যান্ডহাউসগুলোতে দিনের প্রথমভাগ থেকেই ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। তবে, দিনের তুলনায় ইফতারের পর ভিড় বেশি পরিলক্ষিত হয়।
বিভিন্ন দোকানীর সাথে আলাপকালে জানান, দোকান ও শপিংমল খুলে দেয়ার পর প্রথমদিকে ক্রেতার সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু ঈদ ঘনিয়ে আসায় বেড়েছে ক্রেতার সংখ্যা। বিক্রির ব্যস্ততায় অনেক সময় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। ক্রেতাদেরও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা থাকলেও মানছেন না বেশিরভাগই। নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাচ্ছেন মাস্ক পরা, গায়ে গা ঘেঁষে তারা ভিড় করছেন দোকানে। জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ হতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা না হলে এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
এমন অবস্থাকে আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের ভিড় না ঠেকালে আরো ঝুঁকির মুখে পড়বে সিলেট। তাছাড়া, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। এ ক্ষেত্রে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সকলকে সচেতনন থেকে ঝুঁকি মোকাবেলার আহবান তাদের।