৫ মে ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় এসআই আকবরসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অন্য অভিযুক্তরা হলেন, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) আশেকে এলাহি, হাসান উদ্দিন, পুলিশের কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস এবং কথিত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমান। নোমানের বিরুদ্ধে এসআই আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা ও রায়হানকে নির্যাতনের আলামত ধংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টায় সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরকে প্রধান আসামি করে পাঁচ পুলিশসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পিবিআইর সিলেট জেলার পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগপত্রটি যাতে ত্রুটিমুক্ত থাকে তাই সময় নিয়ে তদন্ত শেষে তা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রভূক্ত ৬ জনের মধ্যে ৫ পুলিশ সদস্যই কারাগারে আছেন আর নোমান পলাতক রয়েছেন। এই ঘটনায় তৌহিদ মিয়া নামে আরেক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার হলেও সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয়নি।
এ বিষয়ে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম এ ফজল চৌধুরী জানান, পিবিআই দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে আপাতত কোন অসংঙ্গতি চোখে পড়েনি। তবে অভিযোগপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র তুলার পর বিস্তারিত জানা যাবে। অভিযোগপত্রের কপি আমাদের কাছে আসারপর তা দেখে আমারা সিদ্ধান্ত নেব অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে না রাজি দিবো কি, দিবো না।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান নামের ওই যুবক। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক ই এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।
ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।