২৬ এপ্রিল ২০২১


মশার কামড়ে অতিষ্ট নগরবাসী

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিনে-রাতে মশার কামড়ে অতিষ্ট নগরবাসী। বিশেষ করে লকডাউনের দিনগুলোতে মানুষকে গৃহবন্ধী পেয়ে উৎসবে মেতে উঠেছে মশার দল। মশাদের এই অত্যাচার এখন অসহনীয় পর্যায়ে। রাতে মশার উৎপাতে ঘুমের ব্যঘাত হলেও দিনেও মিলছেনা শান্তির ছোঁয়া। দিনে এবং রাতে সমানতালে চলতে মশার অসহনীয় অত্যাচার। নিমিষেই হুল ফুটিয়ে দিচ্ছে মশা। মশার কামড় থেকে রেহাই পেতে দিনের বেলা মশারি ব্যবহার করছেন অনেকেই। বিঘ্ন ঘটছে শিশুদের পড়ালেখায়ও। এমতাবস্থায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি নগরবাসীর। যদিও তৃতীয় ধাপে মশার ঔষধ ছিটালে এ উপদ্রব কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগরীর লামাবাজার এলাকার বাসিন্দা গোলাম মাওলা বলেন, নগরীতে এখন চলছে মশার রাজত্ব। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন মশার উপদ্রব চার গুণ বেশি। শুধু রাতে নয়, দিনের আলোয়ও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে নগরবাসী। কার্যকরভাবে পূর্ব প্রস্তুতি না নেওয়ার ফলেই এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, বাজার, উন্মুক্ত স্থান, সড়ক, পার্ক, খেলার মাঠ, মসজিদ সর্বত্রই এখন মশার রাজত্ব। গত কয়েকদিন ধরে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে মশা নিধনের ওষুধের চেয়ে মশা আরো শক্তিশালী।

মশা নিধনের বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত (সনতু) বলেন, গেল মাসে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়েছে।

নগরীর কাজলশাহ এলাকার সোলেমান হোসেন বলেন, মশা নিধনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের যথেষ্ট বরাদ্দ থাকার পরও নগরবাসীকে মশার কামড়ের ধকল সহ্য করতে হচ্ছে কেন? মশক নিধনে সিসিকের যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল তাও লক্ষ্য করছে না নগরবাসী। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, নগরবাসীর মনে প্রশ্ন মশাই যদি না মারা যায় তাহলে মেয়র-কাউন্সিলরদের থাকার দরকার কি?

তিনি আরো বলেন, মশা নিধনের ওষুধ ছিটিয়ে সফলতা পেতে হলে উড়ন্ত মশা মারার ফগিং পরিচালনা কমিয়ে লার্ভা নিধনে লার্বিসাইট ওষুধের ব্যবহার বাড়াতে হবে। জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে তাদের উদাসীনতা কিংবা অবহেলা যতদিন দূর না হবে ততদিন মশার দাপট কমবে না-এটাই মনে করে নগরবাসী।

নগরীর বিভিন্ন এলাকাঘুরে দেখা যায়, কিউলেক্স মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী। মশার কামড় থেকে বাচঁতে অনেকই দিনের বেলা মশারী টাঙ্গিয়ে পড়ালেখা করছেন।

এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়াসিস ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফাইলেরিয়াসিসে আক্রান্ত হতে হলে ১০ হাজারবার কিউলেক্স মশার কামড় খেতে হবে। আর যে কোনো মশার শরীরে ওয়েস্ট লাইন ভাইরাস থাকলে ওই মশা কামড়ালেই চিকুনগুনিয়ার মতো একধরণের জ্বরে আক্রান্ত হবে মানুষ।

মশার কামড় থেকে আত্মরক্ষাই সবচেয়ে বড় সমাধান। বসন্তকাল থেকে শুরু হয় মশাবাহিত অসুখ-বিসুখের প্রকোপ, বর্ষাকালে সবচেয়ে বাড়ে। মশা থেকে বাঁচতে হালকা রঙের কাপড় পরবেন, ফুলস্লিভ হলে ভালো। বাড়িতে নেট ব্যবহার করতে পারেন। রাতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করবেন। শিশুরা ঘুমালে দিনেও তাই। পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গেলে অবশ্যই সাবধান থাকবেন, সঙ্গে ফুলহাতা জামা ও মশা তাড়ানোর ওষুধ নেবেন। বাড়িঘরের আশপাশে বদ্ধ পানি নিয়মিত সাফ করবেন। টবের নিচে, এসির নিচে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখবেন। প্রয়োজনে পাড়ার সবাই মিলে নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং পানি ও আবর্জনামুক্ত রাখার বিষয়ে একতাবদ্ধ হোন।

এদিকে মশা নিধনে নগর কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে গত এক বছরে সিসিক কোটি টাকার মশার ঔষধ ছিটিয়েছে বলে জানালেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী।

নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একজন নাগরিক যখন তার অধিকার সম্পর্কে জানবে, তখন তার কি কি কাজ করণীয় তা করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য আমাদের সিলেটের মানুষের মাঝে সচেতনতা বা সেই অধিকার বোধ নাই। নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন। এতে করে নগরীর ড্রেনগুলো ময়লায় ভরে যাচ্ছে। সিসিকের কর্মীরা দিনে রাতে কাজ করেও ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখতে পারছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত নগরবাসী সচেতন না হবে ততদিন এর সুফল ভোগ করা যাবে না।

শেয়ার করুন