১৭ এপ্রিল ২০২১


ঊর্ধ্বমুখী সবজির বাজার

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রমজানের শুরুতেই নানা অজুহাতে সিলেটের বাজারে সবজি, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। বাজারে বেগুন, শসা, লেবু ও গাজরের দাম কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে সয়াবিন তেল, ছোলা, মসুর ডাল, আদা ও রসুনের দাম। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে কমেছে চাল, পেঁয়াজ ও মসলার দাম।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, চলমান লকডাউনের কারণে পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। আগের মতো গাড়ি গাড়ি সবজি আসছে না; ফলে কেজিপ্রতি সব সবজি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। যদিও আড়তদারা বলছেন কারসাজি করে কতিপয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট লকডাউনের অজুহাত দিয়ে পণ্যের সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সয়াবিন তেল লিটার প্রতি দুই টাকা বেড়ে ১৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাম অয়েল ১১২-১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোলা কেজি প্রতি ৬৫ টাকা, মসুর ডাল ৭৫ টাকা, আদা ১১০ টাকা, রসুন কেজি প্রতি ১২০ চিনি ৬৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মিনিকেট চাল কেজিতে ৩ টাকা কমে ৫৭ টাকা, আতব ৫৫, মালা ৫০, জিরা সিদ্ধ ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচাবাজারে সব কিছুতেই দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, পেঁপে ৫৫ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, শসাঁ ৪৫ টাকা, বেগুন ৫৫-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪৫ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ৫০ টাকা।

বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামও। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা! ডিম হালি প্রতি তিন টাকা বেড়ে ৩৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের মতো গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মদিনা মার্কেট বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আবুল কালাম বলেন, নানা অজুহাতে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই আমাদের আয়-রোজগার কমে গেছে। তার মাঝে বাজারে এসে নিত্যপণ্য বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে।

আম্বরখানায় বাজার করতে আসা আব্দুর রাজ্জাক জানান, দিন দিন পণ্যর দাম বাড়ছে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তার মাঝে সামনে রমজান মাস। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে কি করে টিকে থাকবো!

মুরগি কিনতে আসা ফজিলচিশত এলাকার বাসিন্দা হায়দার করিম বলেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একের পর এক পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই বাজারে এসে নিত্যপণ্য বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

মুদি দোকানদার আদনান বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। এক মাস ধরে এভাবে অন্যান্য পণ্যের দাম ওঠা-নামা করছে। পাইকাররা সরবরাহের ঘাটতির অজুহাত দিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। তাই বেশি দরে এনে তো আর লসে বিক্রি করতে পারিনা।

সিলেটের বাজার কর্মকর্তা মুর্শেদ কাদের বলেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে আমাদের পক্ষ থেকে ৪-৫টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করতে কাজ করে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন