১৫ এপ্রিল ২০২১


কলার বাজারে আগুন

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইফতার ও সেহরির অন্যতম অনুষঙ্গ কলা। রমজান মাসে ফলটির চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে দাম। সিলেট নগরে রমজানের প্রথম দিন থেকেই দ্বিগুন দামে বিকোচ্ছে কলা। তাই ফলটি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্য ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষ। যেখানে একদিন আগেও ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে কলার হালি বিক্রি হয়েছে সেখানে এখন প্রতি হালিতে একলাফে দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

মঙ্গলবার বড় কলার হালি ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বুধবার সিলেটের বাজারে সেই কলা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা দরে। সে হিসেবে প্রতিটি কলার দর পড়েছে ৭-৮ টাকা। একদিনের ব্যবধানে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। আবার অনেক জায়গায় বাড়তি দামেও কলা পাওয়া দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।

কলা ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের দাবি, রমজানের আগেও বাজারে কলার সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল। রমজানে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন ব্যবসায়ীরা।

নগরের বন্দরবাজার ও আম্বরখানা ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের প্রথম দিনেই সংকট দেখিয়ে বড় আকারের কলা হালিপ্রতি ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট ও মাঝারি আকারের কলা বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা ধরে। অথচ রমজানের একদিন আগে বড় আকারের কলা ১৫-২০ টাকা ধরে বিক্রি হয়েছিলো। সেহরি ও ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে কলা খেতে বাধ্য হয়ে অনেকে বেশি দাম দিয়ে কলা কিনছেন। তবে নিম্ন ও শ্রমজীবি মানুষ কলা কিনতে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

আম্বরখানা এলাকায় কলা কিনতে আসা জামাল মোস্তফা বলেন, রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা কলা দাম বাড়িয়ে দেন। এবার লকডাউন থাকায় দাম বেড়েছে আরো বেশি। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে রমজানে কলা খাওয়া সম্ভব হবে না।

কলা কিনতে আসা আব্দুল লতিফ বলেন, একদিনের ব্যবধানে এতো দাম বাড়বে এটা অপ্রত্যাশিত। এমনিতেই আয়-রোজগার কমে গেছে। এর মাঝে লকডাউন। তার উপর জিনিনসপত্রের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। এখন কলার দামটাও আমাদের নাগালে রইল না।

আম্বরখানা এলাকায় ভ্রাম্যমান কলা বিক্রেতা আবুল মিয়া বলেন, বাজারে কলার চাহিদা বেশি। আড়ত থেকে কলা কিনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। আমরা তো আর লোকসান দিয়ে কলা বিক্রি করতে পারবো না। রমজানে দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

আরেক কলা বিক্রেতা ছাব্বির হোসেন বলেন, এবার কলার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। রমজানে প্রতিবছরই কলার দাম থাকে। এবার লকডাউনের কারণ সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

শেয়ার করুন