২৭ মার্চ ২০২১
সাইফুর তালুকদার : গোয়াইনঘাটের জাফলং বল্লাঘাট পর্যটন কেন্দ্রের সরকারী ইসিভুক্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছে একটা প্রভাবশালী মহল। তারা বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখায় হুমকির মুখে পড়েছে বল্লাঘাট নদী সংলগ্ন জামে মসজিদ, বসতভিটা, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বহুতল বাণিজ্যিক ভবন।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় লাখেরপাড় গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম ও আবির হোসেনের নেতৃত্বে একটি সুবিধাভোগী মহল অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিদিন বোমা মেশিন ও শতশত বারকী নৌকা দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে ঐতিহ্যবাহী বল্লাঘাট নদী সংলগ্ন জামে মসজিদ ও পাশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বহুতল বাণিজ্যিক ভবন হুমকির মুখে পড়েছে।
এখানে জেলা পরিষদের পর্যটন কেন্দ্র থাকায় প্রতিদিন কয়েকশ’ ছোট-বড় ও শিশু-কিশোর পর্যটক বল্লাঘাট হয়ে মসজিদের নীচ দিয়ে নদী ভ্রমন করতে জিরো পয়েন্ট যান। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন রাস্তায় বালু-পাথর মজুদ করায় যাতায়াতে নানা দুভোর্গ ও প্রতিবন্ধকতা পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দিন জানান, ইসিভুক্ত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলে সাময়িকভাবে কিছু সময় কাজ বন্ধ রাখা হয়। আবার পুনরায় রাতের অন্ধকারে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন চলতে থাকে।
তিনি বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে বল্লাঘাট জামে মসজিদ, পাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
তিনি জাফলং এলাকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে ইসিভুক্ত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে প্রশাসনসহ স্থানীয় সচেতন মহলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ও আবির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নিবার্হী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, ইসিভুক্ত কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালাচ্ছে। আমরা অভিযোগ পেয়েছি রাতের বেলায় বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হয়। এ ব্যাপারে কর্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।