১৪ মার্চ ২০২১


বাড়তি সময়েও শেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ

শেয়ার করুন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ ধীরগতিতে চলছে। কাজের মেয়াদ বাড়ানো হলেও বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। যার ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাওরপাড়ের স্থানীয় কৃষকরা। বেশিরভাগ বাঁধের মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলেও কোথাও কোথাও ড্রেসিং ও ঘাস লাগানো বাকি রয়ে গেছে।

তবে বাঁধের কাজ ৩/৪ দিনের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা না গেলে আগাম বৃষ্টিতে হাওরপাড়ের মানুষ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পিআইসিগুলো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করতে না পারায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন এবং মানবাধিকার কেন্দ্রীয় এবং ছাতক উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে এবার প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয়। মোট ১৮টি পিআইসি’র মাধ্যমে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আওতায় আছে জাউয়া বাজারের চাউলীর হাওর, ডেকার হাওর, মাছুখাল, তারাপুর খাল, কুড়িবিল, লক্ষণসোমকান্দি, মোঘলগাঁও, বাগারাই, দেবেরেগাঁও এবং চরমহল্লা ইউনিয়নের ৩টি পিআইসি’র মধ্যে চানপুর ও কামরাঙ্গি, নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর ও মির্জাখালের বাঁধ।

সরেজমিনে চরমহল্লা ইউনিয়নের ১৬নং পিআইসি’র ডেকার হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙা বন্ধকরণ ও মোরামত কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। চাঁনপুরের বাঁধ সংযোগের কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে। সেখানে ৪/৫ জন লোক মাটি ভরাট করছেন। ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার এ কাজে অনিয়ম করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন। এ সময় দু’জন লোককে ঘাস লাগাতে দেখা গেছে।

এই পিআইসি’র সভাপতি শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বাঁধের কাজ প্রায় শেষ। এখন ঘাস লাগানো হচ্ছে। তবে কাজের মেয়াদ সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।’

১৮নং পিআইসি’র সদস্য সচিব মো. আবুল কাশেম কবীর বলেন, ‘এখানে ডেকার হাওরের ডুবন্ত বাঁধ মেরামতে ১৪ লাখ ২২ হাজার টাকার কাজ চলছে। মোট কাজের ৩ ভাগের ২ ভাগ শেষ হয়েছে। এখন ড্রেসিং চলছে, পরে গাছ লাগানো হবে। কাজ শেষ করতে আরও ১ সপ্তাহ বা ১০ দিন লাগতে পারে।’

২নং পিআইসি’র নাইন্দার হাওরের মির্জাখালে ১১ লাখ ১৩ হাজার টাকার কাজ চলছে। এ পিআইসি’র সভাপতি আফরোজ আলী বলেন, ‘এখানে মাটি ভরাটের কাজ শেষ। ঘাস লাগাতে আরও ৩/৪ দিন লাগতে পারে।’

৫নং পিআইসি’র চওলির হাওরে ডুবন্ত বাঁধের ভাঙা বন্ধকরণ ও মেরামতের জন্য প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকার কাজ চলছে। এখানেও মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিআইসি’র সভাপতি নুরুজ্জামান। ৩/৪ দিনের মধ্যে ড্রেসিং শেষ হবে। তবে ঘাস লাগাতে আর কয়দিন লাগবে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’

পাউবো’র কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব উপ-সহকারী প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, ‘শুক্রবার নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুদ্দোহা স্যারকে নিয়ে চাউলির হাওর ও ডেকার হাওরের বেশ কয়েকটি বাঁধের কাজ পরির্দশন করা হয়েছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে সকল পিআইসির কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পিআইসি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মামুনুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার হাওররক্ষা বাঁধগুলোর প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ কাজে নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শেয়ার করুন